গায়ক মাঈনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে এক নারীকে সাত মাস ধরে আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে ডেমরা থানা-পুলিশ। সোমবার (১৯ মে, ২০২৫) দিবাগত রাত ২টার দিকে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (২০ মে) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমদ তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, নোবেল ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ডেমরার একটি বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছেন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে নোবেলের পরিচয় হয়। ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর মোহাম্মদপুরে দেখা করার পর স্টুডিও দেখানোর কথা বলে তাঁকে ডেমরায় নিজ বাসায় নিয়ে যান নোবেল। সেখানে তাঁকে আটকে রাখা হয়, মুঠোফোন ভেঙে ফেলা হয় এবং ধর্ষণের ঘটনা ভিডিওতে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। সম্প্রতি ভুক্তভোগীকে সিঁড়ি দিয়ে টেনে নামানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হলে তাঁর পরিবার তাঁকে চিনতে পেরে ৯৯৯-এ কল করে। এরপর পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।
ওসি মাহমুদুর রহমান জানান, নোবেল পালানোর চেষ্টা করছিলেন এবং একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। ভুক্তভোগী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন এবং চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
নোবেলের আইনজীবী জসিম উদ্দিন আদালতে দাবি করেন, ভুক্তভোগী নোবেলের স্ত্রী এবং মামলাটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে দায়ের হয়েছে। তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে নোবেলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
‘সা রে গা মা পা’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করা নোবেল এর আগেও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য আলোচনায় এসেছেন।













































































































































































































































