ছোট ও বড় পর্দার পরিচিত মুখ মৌ শিখা, যিনি মঞ্চ নাটক দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করেছেন, গত আড়াই মাস ধরে কাজের সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিনয় জীবনে তিনি ব্যস্ত সময় পার করলেও এখন মাসে মাত্র ৪-৫ দিন কাজ পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে হতাশা ও ক্ষোভ থেকে তিনি শুক্রবার (২৫ জুলাই, ২০২৫) রাতে ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন।
মৌ শিখা তাঁর ফেসবুক আইডি “রওশন আরা বেগম”-এ লিখেছেন, “অনেক বছর থেকে অভিনয় করে আসছি। এতদিন নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবেই জানতাম, কিন্তু গত আড়াই মাস ধরে নিজেকে অভিনেত্রী ভাবতে লজ্জা হচ্ছে। আগে যেখানে মাসে ১৫ থেকে ২০ দিন কাজ করতাম, সেখানে এখন মাসে ৪ থেকে ৫ দিন কাজ করছি। তাহলে কীভাবে মনে হবে আমি অভিনয়শিল্পী? অভিনয় করেই আমার সংসার চলে।” তিনি আরও বলেন, “আমি জানি, বেঁচে থাকতে আমার মূল্যায়ন না হলেও আমার মৃত্যুর পর কিছু মানুষ আমাকে মনে রাখবে। হয়তো বলবে, আহারে মহিলা তো কত ভালো ছিল, কত সহজ-সরল ছিল। কিন্তু তাতে কী লাভ? বেঁচে থাকতে আমার কাজের দরকার, বেঁচে থাকতেই দেখতে চাই আমার মূল্যায়ন হচ্ছে।”
আরও পড়ুন: চিত্রনায়ক ওমর সানীর ক্ষোভ প্রকাশ
তিনি উল্লেখ করেন, ২৫ বছর ধরে তিনি মাত্র ৫,০০০ টাকা পারিশ্রমিকে কাজ করছেন, যা নিয়ে দরকষাকষি করতে হয়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “হঠাৎ করে কেন কাজ কমে গেল? কেন ডিরেক্টররা আমাকে ডাকছেন না, মনে করছেন না?” তিনি সহকর্মীদের কাছে কাজের সুযোগ চেয়ে বলেছেন, “যতদিন বাঁচি, কাজ করে যেতে চাই। আপনারা ব্যাপারটা দেখবেন।”
মৌ শিখা অষ্টম শ্রেণিতে থাকতেই বিয়ে করেছিলেন এবং প্রায় ২৬ বছর আগে স্বামীকে হারান। তিন সন্তানের মা হিসেবে তিনি একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে জীবন পরিচালনা করছেন। তার দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে, এবং তিনি মেয়েকে নিয়ে থাকেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি শাড়ি ডিজাইন ও বুটিকের কাজ করে আয় করেন। তিনি কখনো শিল্পী সমিতির কাছে সাহায্য চাননি, যা তার স্বাবলম্বিতার পরিচয় দেয়।
তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে মিশন এক্সট্রিম, ছায়াবৃক্ষ, লকডাউনের ভালোবাসা, মন বোঝে না, সোলমেড, এবং লিডার: আমিই বাংলাদেশ। তিনি নাগরিক নাট্যাঙ্গনে থিয়েটার দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন।













































































































































































































































