আইয়ুব বাচ্চুর-জন্মদিন-newsedge24

আজ ১৬ আগস্ট ২০২৫, ‘গিটার জাদুকর’ খ্যাত বাংলাদেশের কিংবদন্তি ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন। বাংলা সংগীতের আকাশে ধ্রুবতারা হিসেবে আলো ছড়ানো এই শিল্পী ২০১৮ সালে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৬২ বছর পূর্ণ করে ৬৩-এ পা রাখতেন। তাঁর জন্মদিনে ভক্তদের মনে বিষাদের সুর বাজলেও তাঁর সংগীত এখনো বাংলাদেশের প্রতিটি প্রজন্মের হৃদয়ে জীবন্ত।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা ছিল, যদিও পরিবার প্রাথমিকভাবে এর বিরোধিতা করেছিল। তবে ছেলের আগ্রহ দেখে ১১তম জন্মদিনে তাঁর বাবা একটি গিটার উপহার দেন। এই গিটারই পরবর্তীতে তাঁকে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গিটারিস্ট ও ব্যান্ড তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করে।

কলেজ জীবনে আইয়ুব বাচ্চু বন্ধুদের নিয়ে গঠন করেন তাঁর প্রথম ব্যান্ড ‘গোল্ডেন বয়েজ’, যার নাম পরে বদলে ‘আগলি বয়েজ’ রাখা হয়। এই ব্যান্ডে কুমার বিশ্বজিৎ ছিলেন গায়ক, আর আইয়ুব ছিলেন গিটারিস্ট। তারা স্থানীয় অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতেন। ১৯৭৭ সালে তিনি ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডে গিটারিস্ট হিসেবে যোগ দেন, যেখানে তিনি জেমসের সঙ্গে কাজ করেন। তবে তাঁর উত্থানের সূচনা হয় ১৯৮০ সালে ‘সোলস’ ব্যান্ডে যোগদানের মাধ্যমে।

‘সোলস’-এর হয়ে ১০ বছর পারফর্ম করেন আইয়ুব বাচ্চু। এই সময়ে তিনি বাংলা ব্যান্ড সংগীতে নতুন মাত্রা যোগ করেন। তাঁর গিটারের জাদু এবং গানের কথা তরুণ প্রজন্মের মনে গভীর ছাপ ফেলে। ১৯৯০ সালে তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণে গড়ে তোলেন ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’, যা পরে ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’ বা ‘এলআরবি’ নামে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করে। এলআরবি’র গান যেমন “মেয়ে,” “হঠাৎ তুমি এলে,” “ফিরিয়ে দাও আমার প্রেম” বাংলা রক সংগীতের ইতিহাসে কালজয়ী হয়ে আছে।

আরও পড়ুন: শমী কায়সার জামিনে কারামুক্ত

আইয়ুব বাচ্চু শুধু একজন গিটারিস্ট বা গায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলা ব্যান্ড সংগীতের একজন পথপ্রদর্শক। তাঁর গানে তরুণ প্রজন্ম তাদের আবেগ ও স্বপ্ন খুঁজে পেত। তিনি বাংলাদেশের সংগীতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে গেছেন। আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পরও “চলো বাংলাদেশ,” “রূপালী গিটার,” “কষ্টো পেতে ভালোবাসি”র মতো গানগুলো প্রতিটি সংগীতপ্রেমীর হৃদয়ে বেঁচে আছে।

আইয়ুব বাচ্চু চলে গেলেও তাঁর সংগীত বাংলাদেশের প্রতিটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে। তাঁর রূপালী গিটারের সুর যেন এখনো বাতাসে ভাসছে, বাংলা সংগীতের আকাশে ধ্রুবতারা হয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *