ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া এক মাসের নীরবতা ভেঙে অবশেষে কাজে ফিরেছেন। ১৮ জুন ২০২৫-এ ফেসবুকে প্রাণবন্ত ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “১ মাস পর…।” এই ছোট ক্যাপশনের মাধ্যমে তিনি ভক্তদের কাছে তাঁর প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছবিগুলোতে খোলা চুল ও মিষ্টি হাসির সঙ্গে নুসরাতকে ঝলমলে রূপে দেখা গেছে, যেন তিনি নতুন উদ্যমে ফিরে এসেছেন।
গত ১৮ মে ২০২৫-এ থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করে পুলিশ। পরে ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলাটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় (১৯ জুলাই ২০২৪) এনামুল হক নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যিনি ৩ মে ২০২৫-এ ২৮৩ জনের বিরুদ্ধে নালিশি মামলা দায়ের করেন।
১৯ মে আদালতে তোলার পর নুসরাতের জামিন নামঞ্জুর হয়, এবং তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। তবে ২০ মে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মোস্তাফিজুর রহমান ৫,০০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং মা ফেরদৌসী বেগম ও স্বজনদের সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। মুক্তির সময় তিনি বিমর্ষ ও ক্লান্ত ছিলেন এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।
কারামুক্তির পর নুসরাত ফারিয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ২৩ মে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তিনি ভক্তদের উদ্দেশে লিখেছিলেন, “কারো সঙ্গে কথা বলতে না পারার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করি, এই কঠিন সময়টা দ্রুত পেরিয়ে আবার সুস্থভাবে আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পারব।” এই সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষ্ক্রিয় ছিলেন।
নুসরাতের গ্রেপ্তার ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এটিকে “বিব্রতকর” ঘটনা বলে মন্তব্য করেন। তাঁর আইনজীবী মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় (৯ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট ২০২৪) নুসরাত কানাডায় ছিলেন, তাই তাঁর গ্রেপ্তার যৌক্তিক ছিল না।
অভিনেতা শরাফ আহমেদ জীবন প্রশ্ন তুলে বলেন, নুসরাত ২০২৩ সালে “মুজিব: একটি জাতির রূপকার” সিনেমায় শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যা শিল্পীর কাজের অংশ। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তাহলে কি এই সিনেমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে? এই সিনেমার জন্য নুসরাত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সমালোচিত হন।
নুসরাত ফারিয়া রেডিও জকি হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং ২০১৩ সালে উপস্থাপক হিসেবে পরিচিতি পান। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার ‘আশিকী’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সুড়ঙ্গ’, ‘বিবাহ অভিযান’, ‘অপারেশন সুন্দরবন’, এবং ‘যদি কিন্তু তবুও’।













































































































































































































































