আশির দশকের জনপ্রিয় টিভি তারকা লনি অ্যান্ডারসন মারা গেছেন। রোববার (৩ আগস্ট) লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর ৭৯ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর দীর্ঘদিনের মুখপাত্র শেরিল জে কাগান এ খবরটি এবিসির কাছে নিশ্চিত করেছেন। আগামীকাল ৫ আগস্ট ছিল অভিনেত্রীর ৮০তম জন্মদিন, কিন্তু তার আগেই তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।
লনি অ্যান্ডারসন ‘ডব্লিউকেআরপি ইন সিনসিনাটি’ (WKRP in Cincinnati) সিরিজে রিসেপশনিস্ট জেনিফার মার্লোর চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে গভীর ছাপ রেখেছিলেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সম্প্রচারিত এই কমেডি সিরিজটি ওহাইওর একটি লোকসানি রেডিও স্টেশনের গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছিল, যারা রক মিউজিকের মাধ্যমে নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিল। লনির পাশাপাশি সিরিজে অভিনয় করেছিলেন গ্যারি স্যান্ডি, টিম রিড, হাওয়ার্ড হেসম্যান, ফ্রাঙ্ক বোনার এবং জ্যান স্মিথারস।
জেনিফার মার্লোর চরিত্রে লনি ছিলেন স্বর্ণকেশী, স্মার্ট এবং হাই হিল পরিহিত একজন দক্ষ রিসেপশনিস্ট, যিনি অসংখ্য অনাকাঙ্ক্ষিত ফোন কল এবং ঝামেলা দক্ষতার সঙ্গে সামলাতেন। এই চরিত্রে তিনি স্টিরিওটিপিকাল ‘ডাম্ব ব্লন্ড’ ধারণাকে ভেঙে দিয়েছিলেন এবং প্রমাণ করেছিলেন যে তিনি ছিলেন স্টেশনের সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি। এই ভূমিকার জন্য তিনি দুটি এমি অ্যাওয়ার্ড মনোনয়ন এবং তিনটি গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
লনির পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, “তার চলে যাওয়ায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে আমাদের গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য অনুরোধ করছি।”
লনি অ্যান্ডারসনের অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৭০-এর দশকে। তিনি ‘এস.ডব্লিউ.এ.টি.’, ‘পুলিশ ওম্যান’ এবং ‘বার্নাবি জোন্স’-এর মতো সিরিজে অতিথি শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৮৩ সালে তিনি বার্ট রেনল্ডসের সঙ্গে ‘স্ট্রোকার এইস’ সিনেমায় অভিনয় করেন এবং পরে ১৯৮৮ সালে তাঁর সঙ্গে বিয়ে করেন। তাঁদের এই বিয়ে এবং ১৯৯৪ সালে বিচ্ছেদ ট্যাবলয়েডে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। ২০০৮ সালে তিনি বব ফ্লিকের সঙ্গে বিয়ে করেন, যিনি ‘দ্য ব্রাদার্স ফোর’ নামে ১৯৬০-এর দশকের একটি ফোক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
আরও পড়ুন: ‘কাঁটা লাগা’ খ্যাত শেফালি জারিওয়ালার অকাল মৃত্যু
লনি তাঁর ক্যারিয়ারে বেশ কিছু টিভি মুভিতে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘দ্য জেইন ম্যানসফিল্ড স্টোরি’ (১৯৮০) এবং ‘হোয়াইট হট: দ্য মিস্টিরিয়াস মার্ডার অব থেলমা টড’ (১৯৯১)। ২০২৩ সালে তিনি ‘লেডিস অব দ্য ৮০’স: এ ডিভাস ক্রিসমাস’-এ অভিনয় করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে তাঁর আত্মজীবনী ‘মাই লাইফ ইন হাই হিলস’ প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি তাঁর জীবন, ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।
লনি অ্যান্ডারসন তাঁর বাবা-মায়ের ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) রোগের অভিজ্ঞতা থেকে এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করেছেন। তিনি তাঁর জীবনে চারবার বিয়ে করেছেন এবং তাঁর রয়েছেন দুই সন্তান—মেয়ে ডিয়েড্রা হফম্যান এবং ছেলে কুইন্টন অ্যান্ডারসন রেনল্ডস। তাঁর মৃত্যুতে বারবারা এডেন, মরগান ফেয়ারচাইল্ড এবং লনি লাভের মতো তারকারা শোক প্রকাশ করেছেন।













































































































































































































































