সালমান_শাহ-সামিরা-ডন-newsedge24

সালমান শাহের হত্যা মামলার আসামি সাবেক স্ত্রী সামিরা হক এবং খলনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল হক ডন দেশেই আছেন। গণমাধ্যমে এ কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানা যায়নি। এ পর্যন্ত ৪টি তদন্ত সংস্থা সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিলেও নতুন করে হত্যা মামলা করেছেন তার মামা। এই ঘটনা ২৯ বছর পরও রহস্যাবৃত হয়ে আছে।

সালমান শাহ, ২৯ বছর ধরে যার মৃত্যুর ঘটনা রহস্যই হয়ে রয়েছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ তদন্তযাত্রা, যা প্রায় তিন দশক ধরে অপমৃত্যু মামলা হিসেবেই চলতে থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে মত দেয়।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম। মামলায় আসামি সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, তার বন্ধু চলচ্চিত্রের খলনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল হক ডন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন। সালমান শাহর মরদেহে রক্তের দাগ দেখার অভিযোগ করেন তার মা নীলা চৌধুরী। এ নিয়ে কথা বলেন ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা মর্গ সহকারী।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গ সহকারী মোহাম্মদ সেকেন্দার বলেন, “ওই সময়ে গলায় যে দাগ ছিল সেগুলো নোট করা হয়। পুরো বডির সিমটম নোট করার পর নিখুঁতভাবে ডাক্তার ময়নাতদন্ত করেছেন। পোস্টমর্টেমে আমাদের যেখানে যেখানে নিয়ম কাটার, সেটা করে সম্মানের সহিত সেলাই করে দিয়েছি।”

মরদেহে রক্ত থাকার বিষয়ে এই মর্গ সহকারী বলেন, “মৃত্যুর আগে রক্ত থাকলে সেটার ছবি নিশ্চয়ই আছে, কেউ যদি তুলে থাকে ওইটা একটা ডকুমেন্ট। আর ময়নাতদন্তের পর রক্ত লাগলে এইটাতে কিছু করার নাই।”

এদিকে ১৯৯৭ সালে এক আসামির জবানবন্দি ঘিরে মামলা নতুন মোড় নিয়েছে। রেজভি আহমেদ উপাখ্যান ফারহাদের জবানবন্দিতে বলা হয়, সালমানকে হত্যার জন্য ১২ লাখ টাকা নিয়েছিলেন এবং সামিরার মা লতিফা হক লুসির সাথে যোগাযোগ ছিল। রেজভি পরে জবানবন্দি প্রত্যাহার করে নেন।

আরও পড়ুন: সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর হত্যা মামলা, সামিরাসহ আসামি ১১

পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের দেশে আছে বলে ইমিগ্রেশনকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা পালাতে না পারেন। রমনা থানার ওসি গোলাম ফারুক বলেন, “তদন্ত চলছে। মোবাইল ট্র্যাকিং এবং ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান খুঁজছি।” এ পর্যন্ত ৪টি তদন্ত সংস্থা সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে প্রতিবেদন দিয়েছে, কিন্তু পরিবারের দাবিতে মামলা নতুন করে চালু হয়েছে।

সালমানের মা নীলা চৌধুরী বলেন, “সে আত্মহত্যা করেনি, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সামিরা জড়িত।” এই মামলা বাংলাদেশের সিনেমা জগতের সবচেয়ে বড় রহস্য হিসেবে পরিচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *