অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান প্রথমবার খোলাখুলি বললেন, খ্যাতি তার ব্যক্তিগত জীবন থেকে কীভাবে সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। স্ত্রী সায়রা বানুর সঙ্গে ২৯ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসানের পর প্রথম সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চেন্নাইয়ে থেকে সাধারণ জীবনযাপন করা তার জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
“চেন্নাইতে থাকা ও খ্যাতি—দুটোই আমার জীবন বদলে দিয়েছে। বিদেশে গিয়ে থাকতে পারতাম, কিন্তু কখনো চেন্নাই ছাড়িনি। এখানকার মানুষ আমাকে এত ভালোবাসেন যে ব্যক্তিগত জায়গাটা প্রায় হারিয়ে ফেলেছি,” বলেন রহমান।
তিনি বলেন, “বাইরে বের হলেই ছবি তোলার অনুরোধ। বিমানবন্দরে, পথে, ভ্রমণে—কোথাও শান্তি নেই। বিয়েবাড়িতে খেতে গেলেও একই অবস্থা। প্লেট হাতে বসতেই লোকজন ছুটে আসে ছবি তুলতে। বললেও কথা শোনে না। এখন আর বিয়ের দাওয়াতে খেতে যাই না।”
রহমানের মতে, “খ্যাতি আমার জীবন থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। কিছু জায়গায় স্বাধীনতা বলতে কিছুই আর নেই।” বিদেশের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তিনি বলেন, “বিদেশে গেলে কেউ এভাবে বিরক্ত করে না। ন্যূনতম ব্যক্তিগত পরিসরটা মানুষ সম্মান করে। কিন্তু দেশে জনমুখী হওয়াটাই যেন একটা চ্যালেঞ্জ।”
তবুও দেশ ছাড়ার কথা ভাবেননি রহমান, তিনি বলেন “সবকিছু সত্ত্বেও এখানেই থেকেছি, এখানেই কাজ করেছি। আমার মাটির প্রতি টান আমাকে দেশে ধরে রেখেছে,”।
স্ত্রী সায়রা বানুর সঙ্গে বিচ্ছেদের পরও তিনি তার সম্পর্কে কোনো কুকথা বলতে নারাজ। সায়রা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক যাই হোক, রহমানের প্রতি মানুষের সম্মান তার কাছে অটুট।
‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’-এর অস্কারজয়ী সুরকারের এই স্বীকারোক্তি দেখিয়ে দিল—গ্ল্যামারের উজ্জ্বল আলোর আড়ালে শিল্পীর জীবন কতটা নিঃসঙ্গ ও বোঝায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।













































































































































































































































