ইয়াশ-টক্সিক-010122-NewsEdge24

দীর্ঘ চার বছরের প্রতীক্ষার পর অবশেষে বড় পর্দায় এসেছে ইয়াশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ‘টক্সিক’ সিনেমা। গীতু মোহনদাস পরিচালিত বড় বাজেটের এই ছবিতে দক্ষিণ ভারত ও বলিউডের একাধিক জনপ্রিয় মুখ থাকায় মুক্তির আগেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ। তবে প্রেক্ষাগৃহে আসার পর সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বরং সিনেমাটি ঘিরে শুরু হয়েছে নানা ধরনের সমালোচনা।

ছবিতে অভিনয় করেছেন নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্তের মতো পরিচিত অভিনেত্রীরা। মুক্তির আগে তাদের একসঙ্গে সামনে এনে নারী চরিত্রের গুরুত্ব ও সমতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সিনেমা দেখার পর সমালোচকদের অনেকেরই প্রশ্ন, এত শক্তিশালী অভিনেত্রীকে নেওয়ার পরও কেন তাদের চরিত্রগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হলো না?

ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সিনেমায় নারী চরিত্রগুলোর উপস্থিতি ও স্ক্রিন টাইম অনেকটাই নির্ভর করেছে ইয়াশের চরিত্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ওপর। অর্থাৎ নিজেদের গল্প বা স্বতন্ত্র পরিচয়ের পরিবর্তে নায়কের গল্পের সঙ্গে তাদের সংযোগই যেন চরিত্রগুলোর গুরুত্ব নির্ধারণ করেছে।

সিনেমার শুরু থেকেই ইয়াশের চরিত্রে তারকা-সুলভ উপস্থিতিকে বিশেষভাবে সামনে আনা হয়েছে। হাঁটার ভঙ্গি, সংলাপ বলার ধরন থেকে শুরু করে শরীরী ভাষা সবকিছুতেই ‘ম্যাস’ ইমেজকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সমালোচকদের মতে, চরিত্রের ভেতরের বৈশিষ্ট্য ও গল্পের প্রয়োজনের চেয়ে ইয়াশের তারকা-ইমেজকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় সিনেমার স্বাভাবিক গতি অনেক জায়গায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বড় পর্দায় দর্শককে আকৃষ্ট করার মতো অ্যাকশন, গোলাগুলি ও সংঘর্ষের দৃশ্য থাকলেও গল্পের আবেগ ও চরিত্রগুলোর মানসিক টানাপোড়েন তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলে মনে হয়েছে।

আরও পড়ুন:

অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে কাজ করবেন প্রিয়াঙ্কা

একটির পর একটি অ্যাকশন দৃশ্য সিনেমাকে গতিশীল রাখলেও চরিত্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও আবেগকে পর্যাপ্তভাবে তুলে ধরা হয়নি এমন অভিযোগ উঠেছে। ফলে বড় পরিসরের অ্যাকশন থাকলেও গল্পের সঙ্গে দর্শকের আবেগগত সংযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকদের একাংশ।

মুক্তির আগে সিনেমাটির প্রচারে নারী স্বাধীনতা ও নারী জাগরণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পর্দায় সেই ধারণার বাস্তব প্রয়োগ কতটা হয়েছে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

নারী চরিত্রগুলোকে আত্মনির্ভরশীল ও শক্তিশালী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা থাকলেও তাদের সিদ্ধান্ত, অনুভূতি এবং গল্পের গতিপথ শেষ পর্যন্ত পুরুষ নায়ককে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে এমন সমালোচনাও সামনে এসেছে। ফলে তারকাবহুল আয়োজন, বড় বাজেট এবং ইয়াশের জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে তৈরি করা প্রত্যাশা সত্ত্বেও ‘টক্সিক’ এখন পর্যন্ত সেই মাত্রার সাড়া তৈরি করতে পারেনি, যা মুক্তির আগে সিনেমাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *