নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব-010-NewsEdge24

নাট্যাঙ্গনের তরুণ নাট্যকার ও নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব আর নেই। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।

তার মৃত্যুর খবরটি সহকর্মী নির্মাতা আশিকুর রহমানসহ অভিনয় ও নির্মাণ অঙ্গনের একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন। সজীবের আকস্মিক চলে যাওয়ার খবরে ছোটপর্দার অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

নির্মাতা আশিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, কিছুদিন আগেও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে কাজে ফিরেছিলেন সজীব। এত অল্প বয়সে তার এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কঠিন বলে উল্লেখ করেন তিনি। পোস্টে তিনি আরও জানান, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও সজীব অনলাইনে সক্রিয় ছিলেন।

সজীবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কথাসাহিত্যিক শফিক রিয়ান জানান, চলতি বছরের শুরু থেকেই হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন সজীব। মঙ্গলবার ভোরে ঘুমের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগের রাতেও তারা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন এবং আড্ডা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সজীবের মৃত্যুর খবর জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। সজীবের একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দেওয়ার দোয়া করেন।

কর্মজীবন

নাট্য নির্মাতা হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র কাজের ধরন দিয়ে অল্প সময়েই পরিচিতি পেয়েছিলেন মারুফ হোসেন সজীব। তার বিশেষত্ব ছিল—নিজের নাটকের গল্প নিজেই লিখতেন এবং সেগুলো পরিচালনাও করতেন। গল্প বলার ভিন্নধর্মী ধরন ও নির্মাণশৈলীর জন্য তিনি পেয়েছিলেন একাধিক সম্মাননা।

তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘বিলোপ’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘রঙিন কাগজ’, ‘আধার’, ‘সিকিউরিটি গার্ল’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য’, ‘হাসি’, ‘বিকেল বেলার ছাদ’, ‘দুষ্ট মিষ্টি প্রেম’, ‘আদরের চাঁদ’, ‘জোড়া শালিকের ঘর’, ‘জলকৌড়ি’, ‘দু’জন দুজনার’, ‘বাবলার জাদুর বাক্স’, ‘খুশি’, ‘আজ আকাশে চাঁদ নেই’, ‘কথা বন্ধু’, ‘কাজল চোখের মেয়ে’, ‘আপনারা আমাকে শুনুন’, ‘আজকাল তুমি আমি’, ‘১০০ বিঘা ফুল বাগান’, ‘মুমতা’, ‘মেঘলা’ ও ‘নুসাইবা’সহ আরও বেশ কিছু নাটক।

তরুণ এই নির্মাতার অকালমৃত্যুতে সহকর্মী, অভিনয়শিল্পী ও দর্শকদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *