রিয়্যালিটি শো ‘হাউস অ্যারেস্ট’-এর সঙ্গে জড়িত বিতর্কের মধ্যেই এবার গুরুতর ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন শো-এর উপস্থাপক ও অভিনেতা আজাজ খান। মুম্বইয়ের চারকোপ থানায় এক অভিনেত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ধর্ষণ সম্পর্কিত ধারা ৬৪, ৬৪(২এম), ৬৯ এবং ৭৪-এর অধীনে মামলা রুজু হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
অভিযোগকারিণী অভিনেত্রীর দাবি, আজাজ খান তাকে ‘হাউস অ্যারেস্ট’ শো-তে উপস্থাপনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই সুযোগের সূত্র ধরে তিনি তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার চেষ্টা করেন। অভিনেত্রী আরও অভিযোগ করেছেন, আজাজ তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বলেন, তার ধর্মে চারটি বিবাহের অনুমতি রয়েছে এবং ধর্মান্তরিত হলে তিনি তাকে বিয়ে করবেন। তবে এই আশ্বাসের আড়ালে তিনি বলপূর্বক ধর্ষণ করেন।
অভিনেত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ আজাজ খান তার বাড়িতে এসে প্রথমবার তাকে ধর্ষণ করেন। এর কয়েক দিন পর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। প্রতিবারই তিনি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিনেত্রীকে প্রতারিত করেছেন বলে অভিযোগ। বারবার তাকে থামাতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে রবিবার (৪ মে) অভিনেত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে, ‘হাউস অ্যারেস্ট’ শো ইতিমধ্যেই অশ্লীল ও নারীবিদ্বেষী কন্টেন্টের অভিযোগে বিতর্কের মুখে। শো-তে মহিলা প্রতিযোগীদের উন্মুক্ত পোশাকে ঘনিষ্ঠ ভঙ্গিতে পুরুষ প্রতিযোগীদের সঙ্গে পোজ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া এবং যৌনতাপূর্ণ কাজে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। বজরং দলের কর্মী গৌতম রাভরিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে আজাজ খান, প্রযোজক রাজকুমার পাণ্ডে এবং উল্লু অ্যাপের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মুম্বইয়ের আমবোলি থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারা, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৬ ধারা এবং নারীদের অশালীন উপস্থাপনা (নিষিদ্ধকরণ) আইনের ৪ ধারার অধীনে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
জাতীয় মহিলা কমিশন (এনসিডব্লিউ) আজাজ খান এবং উল্লু অ্যাপের সিইও বিভু আগরওয়ালকে তলব করেছে। শো-এর একটি ভাইরাল ক্লিপে দেখা গেছে, আজাজ মহিলা প্রতিযোগীদের স্পষ্টতই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে যৌন ভঙ্গি প্রদর্শনের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার পর উল্লু অ্যাপ শো-টি সরিয়ে নিয়েছে।
আজাজ খানের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক বিতর্কিত ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। ২০১৬ সালে তিনি অশ্লীল ছবি ও বার্তা পাঠানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে মাদকদ্রব্যের অভিযোগে এবং ২০১৯ সালে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।













































































































































































































































