বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের পেছনে দলগত পারফরম্যান্সকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিবার রাতে বাংলাদেশ ৮৩ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে। এই জয় টি-টোয়েন্টিতে টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়, যা গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮০ রানের জয়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে টাইগাররা।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৭ রানের লড়াকু স্কোর গড়ে। লিটন ৫০ বলে ১ চার ও ৫ ছক্কায় ৭৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যা ১৩ ইনিংস পর তার প্রথম টি-টোয়েন্টি হাফ-সেঞ্চুরি। তিনি জেফ্রি ভ্যান্ডারসের বলে দুইবার (৩০ ও ৫৬ রানে) বেঁচে যান, যা তাকে বড় ইনিংস খেলতে সুযোগ করে দেয়।
পঞ্চম উইকেটে শামীম হোসেনের সঙ্গে ৩৯ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়েন লিটন। শামীম ২৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪৮ রান করে দলকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করান। তাওহিদ হৃদয় ২২ বলে ৩১ রান করেন। লিটন বলেন, “শামীমকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তার অসাধারণ ব্যাটিং আমার উপর থেকে চাপ কমিয়েছে। এই উইকেটে সময় নিয়ে খেললে পরে সুবিধা পাওয়া যায়।”
জবাবে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে ১৫.২ ওভারে ৯৪ রানে গুটিয়ে যায়। প্রথম ম্যাচে ৫১ বলে ৭৩ রান করা কুশাল মেন্ডিস এবার দ্বিতীয় ওভারে শামীমের দুর্দান্ত থ্রোতে ৮ রানে রান আউট হন, যা লিটন ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “কুশাল ভালো ফর্মে ছিলেন। তার আউট আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
বোলিংয়ে রিশাদ হোসেন ৩ উইকেট নিয়ে (৩-১৮) সবচেয়ে সফল ছিলেন। শরিফুল ইসলাম (২-১২) এবং মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন (২ উইকেট) দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লিটন রিশাদের প্রশংসা করে বলেন, “সে আমাদের দলের বড় ফ্যাক্টর। তার ভালো বোলিং আমাদের সবসময় এগিয়ে রাখে। শরিফুলও দারুণ বোলিং করেছে।”
আরও পড়ুন: বাটলার মেয়েদের খেলার প্রশংসা করলেও শেষ ৩০ মিনিট নিয়ে ক্ষোভ
শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালঙ্কা বাংলাদেশের দুর্দান্ত ফিল্ডিং এবং তাদের নিজেদের বাজে ব্যাটিংকে হারের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অসাধারণ ফিল্ডিং এবং আমাদের ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে আমরা হেরেছি।” তবে তিনি সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, “ওয়ানডে সিরিজের মতো এখন টি-টোয়েন্টি সিরিজেও সমতা রয়েছে। পরের ম্যাচে আমাদের আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরতে হবে।”
সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি আগামী ১৬ জুলাই কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।



















































































































































































































































































































































































































































