সঞ্জয় কপূর-newsedge24

লন্ডনে পোলো খেলার সময় মৌমাছি গিলে ফেলার কারণে শ্বাসরোধে মারা যান শিল্পপতি সঞ্জয় কপূর। তবে তাঁর মা রানি কপূর দাবি করেছেন, পুত্রের এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয় এবং এর পেছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সঞ্জয়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর ৩০,০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ও পারিবারিক উত্তরাধিকার নিয়ে লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই বিতর্কের মাঝে শোনা গিয়েছিল, সঞ্জয়ের প্রাক্তন স্ত্রী, অভিনেত্রী করিশমা কপূর তাঁদের দুই সন্তান সামাইরা ও কিয়ানের জন্য এই বিশাল সম্পত্তির অংশ দাবি করেছেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় সঞ্জয়ের বর্তমান স্ত্রী প্রিয়া সচদেব একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা বিতর্ককে আরও জটিল করেছে।

সঞ্জয়ের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী প্রিয়া সচদেবকে সোনা কমস্টারের নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রানি কপূর তীব্র আপত্তি জানিয়ে সেবি-তে চিঠি দিয়েছেন, দাবি করে বলেছেন যে তিনি সোনা গ্রুপের প্রধান শেয়ারহোল্ডার এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। রানি আরও অভিযোগ করেছেন যে পুত্রের মৃত্যুর পর তাঁকে দুঃখের মুহূর্তে জোর করে অজানা নথিতে সই করানো হয়েছে। তিনি সঞ্জয়ের মৃত্যুকে ‘সন্দেহজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং এ বিষয়ে তথ্য ও নথির অভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, প্রিয়া সচদেব সম্প্রতি তাঁর নাম পরিবর্তন করে ‘প্রিয়া সঞ্জয় কপূর’ করেছেন, যা অনেকের কাছে সম্পত্তি ও কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ দখলের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রিয়ার এই পদক্ষেপ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, এবং অনেকে মনে করছেন তিনি সম্পত্তির কোনো অংশ ছাড়তে প্রস্তুত নন। প্রিয়ার পূর্ববর্তী বিয়ে থেকে একটি কন্যাসন্তান, সাফিরা চটওয়াল রয়েছে, যাকে সঞ্জয় দত্তক নিয়েছিলেন। এছাড়া সঞ্জয় ও প্রিয়ার একটি পুত্রসন্তান, আজারিয়াস রয়েছে।

আরও পড়ুন: জাস্টিন বিবার তাঁর ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না

করিশমা কপূরের বিষয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালে সঞ্জয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের সময় তিনি মুম্বাইয়ে একটি বাড়ি এবং তাঁদের দুই সন্তানের জন্য ১৪ কোটি টাকার বন্ড পেয়েছিলেন, যা থেকে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে আয় হয়। তবে সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে করিশমা সঞ্জয়ের ৩০,০০০ কোটি টাকার সম্পত্তির অংশ দাবি করছেন, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করিশ্মার কোনো সরাসরি অংশ নেই এবং সম্পত্তি আইনত রানি কপূর, প্রিয়া সচদেব এবং সঞ্জয়ের সন্তানদের মধ্যে ভাগ হবে।

সঞ্জয়ের প্রথম স্ত্রী ছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার নন্দিতা মাহতানি, যিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন। সঞ্জয়ের মৃত্যুর পর তাঁর তিন সন্তান—সামাইরা, কিয়ান ও আজারিয়াস—এবং প্রিয়ার প্রথম বিবাহের কন্যা সাফিরার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোনা কমস্টারের নিয়ন্ত্রণ ও সম্পত্তির ভাগ নিয়ে চলমান এই বিতর্ক দিল্লির কপূর পরিবারে চাপা অশান্তি সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *