বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন দেশের অন্যতম শীর্ষ স্প্রিন্টার জহির রায়হানকে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও ফেডারেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ছয় মাসের জন্য অ্যাথলেটিকসের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে। বুধবার (১৬ এপ্রিল ২০২৫) ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তি ঘোষণা করা হয়। তবে জহির এই নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায় হিসেবে দেখছেন এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
জহিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ২১-২৩ মার্চ চীনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইনডোর অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে হিটে বাদ পড়ার পর তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেন, “বিদায়ই আমাদের ভাগ্য, কারণ আমাদের জন্য অনুশীলনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে অনুশীলন করেছি। এভাবে কি পদক জয়ের স্বপ্ন দেখা যায়?” ফেডারেশন মনে করে, এই বক্তব্য তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এছাড়া, ঈদের ছুটির পর জাতীয় ক্যাম্পে যোগ না দিয়ে বিকেএসপিতে ফেডারেশনের অনুমতি ছাড়া অনুশীলন করা এবং কার অধীনে অনুশীলন করছেন তা জানাতে ব্যর্থ হওয়াকেও শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
জহির তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমি একা অনুশীলন করে কী শৃঙ্খলা ভাঙলাম? আমি কিছু গোপন করিনি, ক্যাম্প ছেড়ে ঘুরে বেড়াইনি। আমার লক্ষ্য ছিল সামনের এসএ গেমসে দেশের জন্য ভালো কিছু করা। বিকেএসপিতে ভালো ট্র্যাক ও সুযোগ-সুবিধা থাকায় সেখানে অনুশীলন করেছি।” তিনি ইংল্যান্ডপ্রবাসী অ্যাথলেট ইমরানুর রহমানের উদাহরণ টেনে বলেন, “ইমরানও তো ইংল্যান্ডে একা অনুশীলন করে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাহলে আমার ক্ষেত্রে এটা শৃঙ্খলাভঙ্গ কেন?” তিনি আরও বলেন, “যা বলেছি সত্যি বলেছি। সত্যি বলাই কি আমার অপরাধ?”
এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নৈতিক স্খলন, শৃঙ্খলাভঙ্গ, বিনা অনুমতিতে ক্যাম্পে অনুপস্থিতি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় গ্রেপ্তারের অভিযোগে জহিরকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে তাঁর অঙ্গীকারের ভিত্তিতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। ২০২৪ সালে এশিয়ান ইনডোরে ৪০০ মিটারে রুপা জিতে এবং ২০২১ টোকিও অলিম্পিক ও বিশ্ব ইনডোর অ্যাথলেটিকসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে জহির নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির ২০২৪ সালের সেরা অ্যাথলেটের পুরস্কারও পেয়েছেন।
জহির এই নিষেধাজ্ঞাকে একটি ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “আসলে আমাকে নিয়ে হয়তো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সামনে এসএ গেমস। আমার মনোযোগ যেন অন্য দিকে থাকে, এই কারণেই এই শাস্তি। আমি চুরি করিনি, অন্যায় করিনি।” তিনি এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম প্রশ্ন তুলে বলেন, “বাকি অ্যাথলেটরা আর্মি স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে পারলে জহিরের সমস্যা কী?” এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জহির আগামী ছয় মাস কোনো ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না এবং জাতীয় ক্যাম্পেও যোগ দিতে পারবেন না। এটি তাঁর এসএ গেমসে অংশগ্রহণের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা।


















































































































































































































































































































































































































































