এসিসি-ACC-Cup-newsedge24
  • July 19, 2025
  • নিউজএজ ডেস্ক
  • 1

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ২৪ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এবং এসিসির আরও কয়েকটি সদস্য বোর্ড রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কারণে এই সভা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এবং স্পোর্টস তক-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিসিসিআই ইতোমধ্যে এসিসি এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, ঢাকায় সভা অনুষ্ঠিত হলে তারা অংশ নেবে না।

বিসিসিআই’র এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনাকে দায়ী করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিসিসিআই এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ভারতের বাংলাদেশ সফর ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নির্ধারণ করেছে। এছাড়া, শ্রীলঙ্কা, ওমান এবং আফগানিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডও ঢাকায় সভার ভেন্যু নিয়ে আপত্তি তুলেছে। তবে এসিসি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, যিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও, ঢাকায় সভা আয়োজনে অনড় রয়েছেন।

ইন্ডিয়া টুডেকে একটি সূত্র জানিয়েছে, “বিসিসিআই এসিসি এবং চেয়ারম্যান নাকভিকে তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। তারা ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিল, কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পায়নি।” সূত্রটি আরও দাবি করেছে, মহসিন নাকভি এশিয়া কাপ নিয়ে ভারতকে চাপে রাখতেই ঢাকায় সভা আয়োজনে জোর দিচ্ছেন।

২০২৫ সালের এশিয়া কাপ, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছয়টি দল নিয়ে সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, এখন অনিশ্চয়তার মুখে। এসিসি এখনো টুর্নামেন্টের সূচি বা ভেন্যু চূড়ান্ত করেনি। সম্ভাব্য বিকল্প ভেন্যু হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম উঠে এসেছে। তবে বিসিসিআই, শ্রীলঙ্কা, ওমান এবং আফগানিস্তানের বর্জনের হুমকির কারণে টুর্নামেন্টটি নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এসিসির সংবিধান অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বোর্ডগুলোর অনুপস্থিতিতে ঢাকার সভায় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা অকার্যকর হতে পারে। এটি এশিয়া কাপের আয়োজনকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০২৩ সালে ভারত পাকিস্তানে এশিয়া কাপে খেলতে যায়নি, এবং শ্রীলঙ্কায় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে তাদের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ বছরের শুরুতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও ভারত পাকিস্তানে না গিয়ে দুবাইয়ে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলেছিল।

আরও পড়ুন: আইপিএল বিসিসিআইয়ের সোনার ডিম দেওয়া হাঁস

গত মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ায় যে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনার কারণে বিসিসিআই পুরুষ ও মহিলা এশিয়া কাপ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিসিসিআই’র সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, এসিসি ইভেন্ট নিয়ে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি, এবং এই খবরগুলো “কাল্পনিক ও জল্পনামূলক।”

এসিসির ২৭টি সদস্যদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বোর্ডগুলোর বর্জনের হুমকি এশিয়া কাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বাড়িয়েছে। মাত্র পাঁচ দিন বাকি থাকলেও এসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সভা বা টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা উঠলেও, মহসিন নাকভির অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *