শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টের প্রথম দিন বৃষ্টি ও ব্যাটিং বিপর্যয়ে ধুঁকেছে বাংলাদেশ। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় খেলা বন্ধ থাকলেও বাকি সময়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের অদ্ভুত শট খেলার প্রবণতা ও দুর্বল সিদ্ধান্ত দলকে বিপর্যয়ে ঠেলে দিয়েছে। দিন শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ মাত্র ২২০ রান।
টেস্টের আগের দিনই কলম্বোর উইকেটে গলের মতো ব্যাটিং উইকেটের আভাস পেয়েছিল দুই দল। টস জিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাটিং নেন, উদ্দেশ্য ছিল বড় রানের পুঁজি গড়ে পরে স্পিনারদের সুবিধা কাজে লাগানো। সকালে সামান্য সিম মুভমেন্ট ছাড়া উইকেট বোলারদের জন্য কোনো সহায়তা দেয়নি। তবুও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা অকারণ তাড়াহুড়া ও বাজে শট খেলে একের পর এক উইকেট হারিয়েছেন। দিনের শেষ ব্যাটসম্যান নাঈম হাসান ছাড়া কেউই উল্লেখযোগ্য বলে আউট হননি।
ইনিংসের সংক্ষিপ্ত চিত্র
- লাঞ্চের আগে ২৬ ওভারে ৭১ রান তুললেও হারায় এনামুল হক (০) ও মুমিনুল হকের উইকেট। এনামুল ৫ম ওভারে আসিতা ফার্নান্দোর সামান্য ইনসুইংয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে বোল্ড হন। আউটের আগে দুবার স্লিপে ক্যাচ তুলেছিলেন।
- চা বিরতির আগে আরও ৩ উইকেট পড়ে। নাজমুল (৮) বিশ্ব ফার্নান্দোর স্টাম্পের বাইরে যাওয়া বলে শেষ মুহূর্তে ব্যাট ছুঁইয়ে কট বিহাইন্ড হন। সাদমান ইসলাম (৪৬) থারিন্দুর বাইরের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন।
- শেষ সেশনে ৭৬ রান আসে ৩ উইকেট হারিয়ে। মুশফিকুর রহীম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪) দুজনই দুবার করে জীবন পেয়েও ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ। শ্রীলঙ্কার অভিষেক স্পিনার সোনাল দিনুশা এদের আউট করেন। মুশফিক সুইপ শটে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন। শেষ বিকেলে মেহদী হাসান এবং নাইম হাসান ফেরেন ৩১ ও ২৫ রান করে।
বাংলাদেশের পাঁচ ব্যাটসম্যান ভালো শুরু পেলেও কেউ ফিফটি করতে পারেননি। একমাত্র জুটি হিসেবে মুশফিক ও লিটনের ৬৭ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি উল্লেখযোগ্য। শ্রীলঙ্কার ফিল্ডারদের ক্যাচ ফেলার সুবিধা পেয়েও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ। সাদমানের ৪৬ রান দলের সর্বোচ্চ, যেখানে তিনি ৭টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন।
ব্যাটিং উইকেটে এমন বিপর্যয় বাংলাদেশের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা। শ্রীলঙ্কার বোলাররা উইকেট থেকে সুবিধা না পেলেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বেপরোয়া শট ও দুর্বল সিদ্ধান্ত তাদের কাজ সহজ করে দিয়েছে।


















































































































































































































































































































































































































































