বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে নতুন এক বড় বিতর্কে জড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এই ঘটনায় টুর্নামেন্টের মাঝপথে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা ফিফা সভাপতির ভূমিকা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, লারা ওল্টার্স এবং নিলস ফুগলসাং এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চলমান টুর্নামেন্টের মাঝপথে লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার নিয়ম কার্যত পরিবর্তন করা ন্যায়বিচারের চরম লঙ্ঘন এবং এটি খেলাধুলার মূল নীতির পরিপন্থী।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১ জুলাই, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মধ্যকার ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচে তার মাঠে নামার কোনো সুযোগ ছিল না। তবে সোমবারের ম্যাচের ঠিক আগে ফিফা তার শাস্তি প্রত্যাহার করে তাকে খেলার অনুমতি দেয়।
অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান এবং এরপরই ফিফা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য, “আবারও দেখা গেল, ইনফান্তিনো ও ফিফা ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে নতি স্বীকার করেছে।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনপ্রণেতারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোকে ফিফার এথিকস কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক চাপের পাশাপাশি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের’ অন্যান্য সম্ভাব্য অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন তারা। যার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফা ‘পিস প্রাইজ’ দেওয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্তটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইতোমধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অন্তত ৩৫ জন সদস্য এই তদন্ত দাবির পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, “খেলাধুলার সৌন্দর্য নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নিয়মের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু রাজনৈতিক চাপের ভিত্তিতে কে খেলবে আর কে খেলবে না, তা নির্ধারিত হলে সেই ন্যায্যতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।”
অন্যদিকে, ফিফা এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি তাদের শৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এবং নিয়ম মেনেই নিয়েছে।

























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































1 comment on “ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তদন্তের দাবি”