ক্রিকেট বিশ্ব এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অন্য এক বাংলাদেশ দলকেই দেখেছে। কিছুদিন আগেই তারা জিম্বাবুয়ের কাছে একমাত্র টেস্ট হেরেছিল আড়াই দিনে, ইনিংস ব্যবধানে। এরপর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছেও ইনিংস ব্যবধানে হারের তেতো স্বাদ পেয়েছিল তারা। অথচ তারাই কিনা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস রচনা করেছে। ডারউইন টেস্ট জিতে নিয়েছে চতুর্থ দিনে ৯ উইকেটে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় সাফল্য তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
এখন নতুন স্বপ্ন বুনছেন তারা। আগামীকাল ভোর ৬টায় ম্যাকাইয়ে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। এ টেস্টের ফল কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ডারউইন টেস্ট জিতে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। তারা এখন দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জিতে সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসতে উন্মুখ হয়ে আছেন। সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করে নিয়েছেন। ২২ গজের ময়দানে এখন নিজেদের শুধু মেলে ধরার পালা।
ডারউইনের তুলনায় ম্যাকাইয়ের কন্ডিশন ভিন্ন। তবে নিজেদের পরিকল্পনা মাঠে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে ফল পক্ষে আসবে বলেই বিশ্বাস লাল-সবুজদের। ক্যারিবীয় কোচ ফিল সিমন্স জানান, ডারউইনে জয়ের পর দলের সবাই আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। সেটাই তাদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচ জিতলে আত্মবিশ্বাস তো থাকবেই। আমরা ভালো খেলেছি, একটি ভালো টেস্ট ম্যাচ জিতেছি। তাই আত্মবিশ্বাস অনেক উঁচুতে আছে।’
ডারউইনে টেস্ট শুরুর আগে অনেকের ধারণা ছিল, এ টেস্ট দ্বিতীয় বা সর্বোচ্চ তৃতীয় দিন পর্যন্ত গড়াতে পারে। বাংলাদেশ যে জিতবে এটা অনেকের কল্পনাতেও ছিল না! অথচ ডারউইনে চারদিনই শাসন করেছেন টাইগাররা। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত ছিলেন তারা।
ম্যাকাইয়ে কি পরিকল্পনা থাকবে তাদের? কোনো রাখঢাক না রেখেই ফিল সিমন্স বলেন, ‘পরিকল্পনা হলো ব্যাটিং করা। টেস্ট ক্রিকেট পাঁচ দিনের খেলা। দল যদি ওই পাঁচ দিনের মধ্যে অন্তত ১১ ঘণ্টা ব্যাট করতে পারে, তাহলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারবে। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি। আমরা ব্যাট করতে চাই, প্রথম ইনিংসে বড় রান করতে চাই এবং নিশ্চিত করতে চাই, আমাদের কাছে পৌঁছাতে প্রতিপক্ষকে যেন অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।’
ম্যাকাইয়ের পিচ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পিচ দারুণ। কিছুটা ঘাস আছে। অনেক শক্ত। ভালো টেস্ট উইকেট। প্রতিটি উইকেটই ব্যাটারদের জন্য ভালো। ব্যাপারটা হচ্ছে আপনি ঠিকভাবে ব্যাট করছেন কিনা।’
ম্যাকাইয়ে বাতাস অনেক বেশি। বাতাসে ব্যাটারদের সমস্যা হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে সিমন্স বলেন, ‘ডারউইনেও অনেক বাতাস ছিল। দুই দলকেই এভাবে খেলতে হবে। ভালোভাবে মানিয়ে নিতে হবে। আগে আসতে পেরে তাই ভালোই হয়েছে। আমরা জানি, এখানে কী কন্ডিশন। ছেলেদের কেবল মানিয়ে নিয়ে ভালো খেলতে হবে।’
আরও পড়ুন: তানজিদ-হাসান মাহমুদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ অজি কিংবদন্তিরা
চোট কাটিয়ে ডারউইনেই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। ম্যাকাইয়ে তার খেলার সম্ভাবনাও আছে। তবে একাদশে চার পেসার রাখা হবে কিনা, সে ব্যাপারে খোলাসা করে কিছুই বলেননি প্রধান কোচ। সিমন্স বলেন, চার পেসার খেলাবেন কিনা আসলে এটা এখনও ঠিক করিনি। কালকে ঠিক করব।’
অস্ট্রেলিয়া যে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে, সেটি অজানা নয় বাংলাদেশের ক্যারিবীয় কোচের। প্রথম টেস্ট হারটাকে তারা যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। ম্যাকাইয়ে নিজেদের শক্তি দেখিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করার ব্রত থাকবে তাদের। সিমন্স অজিদের সমীহ করছেন। ছেলেদের প্রতি তার বার্তা, ‘অস্ট্রেলিয়া আরও কঠিনভাবে ফিরে আসবে। তাই আমাদের হয় ওই পারফরম্যান্সের মান ধরে রাখতে হবে, নয়তো আরও একটু ভালো করতে হবে।’


















































































































































































































































































































































































































































