সিলেট, ২৩ এপ্রিল ২০২৫: সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচে জিম্বাবুয়ে তাদের টেস্ট ইতিহাসে রেকর্ড রান তাড়া করে তিন উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে। ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিম্বাবুয়ে ম্যাচ জিতেছে, যা তাদের টেস্ট ক্রিকেটে আগের সর্বোচ্চ ১৬২ রান তাড়ার রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই জয়ের মাধ্যমে জিম্বাবুয়ে ৭ বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে এবং দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেছে।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
-
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৯১/১০ (৬১ ওভার)। নাজমুল হোসেন শান্ত (৪৩) এবং মোমিনুল হক (৩৮) ছাড়া ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ে। জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারাবানি এবং ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৩টি করে উইকেট নেন।
-
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ২৭৩/১০ (৮০.২ ওভার)। শন উইলিয়ামস (৫৯) এবং ব্রায়ান বেনেট (৪০) গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ৫/৫২ নিয়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রাখেন।
-
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ২৫৫/১০ (৭৯.২ ওভার)। জাকের আলী অনিক (৫৮) এবং শান্ত (৬০) অর্ধশতক করেন, কিন্তু চতুর্থ দিনে দ্রুত উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ১৭৩ রানের লিড দেয়। মুজারাবানি ৫ উইকেট নেন, ম্যাচে মোট ৯ উইকেট পান।
-
জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ১৭৪/৭ (৪৯.৪ ওভার)। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট (৪৫) এবং বেন কারান (৪৪) ৯৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। মেহেদী হাসান মিরাজ (৫/৬৯) এবং তাইজুল ইসলাম (২/৬৯) ১৪৫/৬ পর্যন্ত নামিয়ে আনলেও, ওয়েসলি মাদেভেরে (১৪*) এবং রিচার্ড এনগারাভা (৪*) অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করেন।
জিম্বাবুয়ের টেস্ট ইতিহাসে এটি তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। এর আগে তারা কখনো ১৬২ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি। ১৭৪ রানের এই লক্ষ্য তাড়া বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের প্রথম সফল উল্লেখযোগ্য রান তাড়ার রেকর্ড। এই জয়টি জিম্বাবুয়ের চতুর্থ বিদেশী টেস্ট জয় এবং সিলেটে দ্বিতীয় জয়, পূর্বে ২০১৮ সালে তারা এখানে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল।
বাংলাদেশ এবং জিম্বাবুয়ে এখন পর্যন্ত ১৯টি টেস্ট খেলেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ ৮টি এবং জিম্বাবুয়ে ৮টি জিতেছে, বাকি তিনটি ড্র হয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস ৫৬০/৬ (২০২০, ঢাকা), আর সর্বনিম্ন ১০৭ (২০০১, ঢাকা)। এই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ১৯১ রান ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাদের চতুর্থ সর্বনিম্ন স্কোর।
জিম্বাবুয়ের এই রেকর্ড রান তাড়া তাদের টেস্ট ক্রিকেটে দৃঢ়তা এবং সম্ভাবনার প্রমাণ। মুজারাবানির বোলিং এবং ওপেনারদের আক্রমণাত্মক শুরু জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল। অন্যদিকে, মেহেদী হাসান মিরাজের অসাধারণ পারফরম্যান্স সত্ত্বেও বাংলাদেশের ব্যাটিং ও পেস বোলিংয়ের ব্যর্থতা হারের কারণ। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে শুরু হবে, যেখানে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।



















































































































































































































































































































































































































































