উইজডেনের বিশ্লেষণে-newsedge24
  • January 27, 2026
  • নিউজএজ ডেস্ক
  • 0

আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ঘোষণা করেছে যে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে স্কটল্যান্ড। এই ঘটনা নিয়ে বিখ্যাত ক্রিকেট ম্যাগাজিন উইজডেন প্রশ্ন তুলেছে—আইসিসি কি ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ প্রয়োগ করছে?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো (কলকাতা ও মুম্বাইয়ে) শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু আইসিসি এতে রাজি হয়নি, কারণ তাদের মতে ভারতে বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য’ নিরাপত্তা হুমকি নেই। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে (ফেব্রুয়ারি ৭ থেকে শুরু) এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে গ্রুপ সি-তে (ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল, ইতালি) স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই ঘটনার পেছনে মূল ট্রিগার ছিল বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল ২০২৬ থেকে বাদ দেওয়া। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে কিনলেও, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’ উল্লেখ করে তাকে ছাড়ার নির্দেশ দেয়। বিসিবি এটিকে নিরাপত্তা হুমকির ইঙ্গিত হিসেবে দেখে এবং পুরো দল, স্টাফ, ফ্যান ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়।

উইজডেনের প্রতিবেদনে এই ঘটনার সঙ্গে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির তুলনা করা হয়েছে। তখন ভারত পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি ‘হাইব্রিড মডেল’ গ্রহণ করে ভারতের ম্যাচগুলো দুবাইয়ে আয়োজন করে। ভারতকে তিন মাসের মতো সময় দেওয়া হয়েছিল, যা তাদের সুবিধা দিয়েছে এবং তারা টুর্নামেন্ট জিতেও নেয়। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সূচি ঘোষণার পর মাত্র এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। উইজডেন প্রশ্ন তুলেছে—সময়ের এই ব্যবধান কি আইসিসির ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ কে ন্যায্যতা দিতে পারে?

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া ছিল রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার একটি অংশ। বিসিসিআই কখনো নিরাপত্তার কথা বলেনি, শুধু ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’ উল্লেখ করেছে। যদি একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে পুরো দলের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে—এই যুক্তি তুলে ধরেছে বিসিবি।

উইজডেন মনে করে, ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি ও সুপারস্টারদের কারণে আইসিসি তাদের তোষণ করে চলেছে। ভারত ছাড়া টুর্নামেন্ট প্রায় অচল হয়ে পড়ে, তাই তাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়া সহজ। কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশের সেই সামর্থ্য নেই, ফলে তারা খেসারত দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত স্কটল্যান্ড

আইসিসি জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে তিন সপ্তাহেরও বেশি আলোচনা করেছে, স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন করেছে এবং কোনো হুমকি পায়নি। টুর্নামেন্টের অখণ্ডতা রক্ষায় সূচি পরিবর্তন সম্ভব ছিল না।

এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ অনেকে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং আইসিসিকে ক্রিকেটকে একত্রিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *