২০২৫ সালের এশিয়া কাপ আর্চারি (দ্বিতীয় লেগ) এর পুরুষদের রিকার্ভ ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের ১৯ বছর বয়সী তরুণ আর্চার আবদুর রহমান আলিফ সোনার পদক জিতেছেন। সিঙ্গাপুরের বুকিত গমবাক স্টেডিয়ামে ২০ জুন অনুষ্ঠিত ফাইনালে তিনি জাপানের মিয়াতা গাকুতোকে ৬-৪ সেট পয়েন্টে পরাজিত করেন। এটি আলিফের ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যক্তিগত সোনার পদক এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় রিকার্ভ পুরুষ আর্চার হিসেবে এশিয়া কাপে সোনা জয়ের কীর্তি, এর আগে ২০১৯ সালে রোমান সানা এই অর্জন করেছিলেন।
রিকার্ভ পুরুষদের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৭৯ নম্বরে থাকা আলিফ টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। ফাইনালে ওঠার পথে তিনি একের পর এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়েছেন:
- এলিমিনেশন রাউন্ড: ১৬ জুন ‘বাই’ পেয়ে শুরু করেন। শেষ ৩২-এ চীনের আলিনকে ৬-২ সেট পয়েন্টে পরাজিত করেন।
- রাউন্ড অফ ১৬: মালয়েশিয়ার মুহাম্মাদ শফিককে ৬-৪ সেট পয়েন্টে হারান।
- কোয়ার্টার ফাইনাল: চায়নিজ তাইপের লি কাই-ইয়েনকে ৭-৩ সেট পয়েন্টে পরাজিত করেন।
- সেমিফাইনাল: চায়নিজ তাইপের চেন পিন-আনের বিপক্ষে প্রথম সেট জিতলেও পরের দুই সেট হারেন। তবে চতুর্থ সেটে ২৯-২৫ এবং পঞ্চম সেটে ২৮-২৭ স্কোরে জিতে ফাইনালে জায়গা করে নেন।
ফাইনালে আলিফ শুরু থেকেই আধিপত্য দেখান। প্রথম সেট ২৮-২৭ এবং দ্বিতীয় সেট এক পয়েন্ট ব্যবধানে জিতে নেন। গাকুতো তৃতীয় ও চতুর্থ সেট জিতে সমতা ফিরিয়ে আনলেও, পঞ্চম সেটে আলিফ ২৯-২৬ স্কোরে জয় তুলে নিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন।
১৫-২০ জুন, ২০২৫ পর্যন্ত চলা এশিয়া কাপ আর্চারির দ্বিতীয় লেগে ২১টি দেশের ২১৩ জন আর্চার অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড বিভাগে মোট ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী অংশগ্রহণ করেন। আলিফ ছাড়াও হিমু কম্পাউন্ড পুরুষ একক ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য ভারতের সাচিন চেচির বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
৩০টি পদকের মধ্যে বাংলাদেশ একটি সোনা জিতেছে। ভারত ২টি সোনাসহ মোট ৯টি পদক নিয়ে শীর্ষে, এবং ইন্দোনেশিয়া ২টি সোনাসহ ৫টি পদক নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
১৯ বছর বয়সী আলিফ বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি আর্চারি বিশ্বকাপ, এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ এবং এশিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সে অংশ নিলেও ব্যক্তিগত পদক জিততে পারেননি। ২০২৪ সালের এশিয়ান ইয়ুথ আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি রৌপ্য পদক জিতেছিলেন। এই সোনা তার ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যক্তিগত সোনার পদক এবং বাংলাদেশের আর্চারির ইতিহাসে একটি মাইলফলক।


















































































































































































































































































































































































































































