এশিয়া কাপ ২০২৫-এর ফাইনালে ভারতের ৫ উইকেটের জয় সত্ত্বেও টুর্নামেন্টের সমাপ্তি হয়েছে বিতর্ক আর হতাশার ছায়ায়। ভারতীয় দল এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে অস্বীকার করায় নাকভি শিরোপা ছাড়াই চলে যান, আগে সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে হ্যান্ডশেক না করায় পাকিস্তান ক্যাপ্টেন সালমান আলী আঘা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সালমানের মতে, এসব ঘটনা কেবল পাকিস্তানকে নয়, ক্রিকেট খেলকেই অসম্মান করছে। ফলে পিসিবি আইসিসির কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে, যখন বিসিসিআইও পরবর্তী সভায় শক্ত অবস্থান নেবে। ফাইনালে ভারতের জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে ৩১ বছর বয়সী সালমান আঘা বলেন, “এ টুর্নামেন্টে ভারত যা করেছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা আমাদের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে ক্রিকেটকেই অসম্মান করছে। ভালো দলগুলো এমন করে না। আমরা নিজেরাই ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলেছি, কারণ এটা আমাদের দায়িত্ব ছিল।”
সালমানের বিশ্বাস, সূর্যকুমারকে উপরমহল থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন আচরণ করার। তিনি যোগ করেন, “টুর্নামেন্ট শুরুতে সূর্যকুমার ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে—সংবাদ সম্মেলনে এবং ম্যাচ রেফারির সভায়। কিন্তু ক্যামেরার সামনে এসে তারা ভিন্ন রূপ দেখিয়েছে। আমি নিশ্চিত, তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
এর আগে গ্রুপ স্টেজে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পরও হ্যান্ডশেক বিতর্ক উঠেছে। ভারতীয় ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব টসের সময় এবং ম্যাচ শেষে সালমানের সঙ্গে হাত না মেলানোর ঘটনায় পাকিস্তান দল অপেক্ষা করে থেকে হতাশ হয়। সূর্যকুমার পরে বলেন, এটা বিসিসিআই এবং ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত, যা পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি সমর্থনের প্রতীক। ফলে সালমান প্রেজেন্টেশন এড়িয়ে যান এবং পাকিস্তান কোচ মাইক হেসন বলেন, “আমরা হ্যান্ডশেকের জন্য অপেক্ষা করেছিলাম, কিন্তু তারা ড্রেসিং রুমে চলে গেছে।”
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর নেই: সূর্যকুমার
ফাইনালে ট্রফি না পাওয়ার দায় ভারত দলকেই দেন সালমান। তিনি বলেন, “এমনটা জীবনে প্রথম দেখলাম। এসব ক্রিকেটের জন্য খারাপ, আশা করি থামবে।” ভারত দল কল্পিত ট্রফি নিয়ে উদযাপন করে, যা এসিসির প্রোটোকল লঙ্ঘন। এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভি, যিনি পিসিবিরও প্রধান, ট্রফি দেওয়ার অযোগ্যতা অনুভব করে শিরোপা ছাড়াই চলে যান। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানান, আইসিসির পরবর্তী সভায় এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করবেন। অন্যদিকে, পিসিবি ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, যিনি টসে হ্যান্ডশেক এড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি।
এই বিতর্ক দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়ায় এশিয়া কাপকে ছাপিয়ে গেছে। পাহালগাম হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারতের অপারেশন সিন্দুরের পর এটা প্রথম টুর্নামেন্ট, যা ক্রিকেটের চেয়ে জাতীয়তাবাদকে সামনে এনেছে। সালমান বলেন, “কোনো হ্যান্ডশেক নয়, এটা ক্রিকেটের জন্য খারাপ উদাহরণ।”


















































































































































































































































































































































































































































