ক্রিকেটের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিকে ‘অর্থের জোরে’ নানা উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত, এমন বিস্ফোরক দাবি করেছেন আইসিসির সাবেক ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) বিপুল আয়ের কারণে আইসিসির কর্মকর্তারা ভারতকে ‘সহানুভূতিশীল’ আচরণ করেন, এমনকি নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও জরিমানা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দেন।
৬৮ বছর বয়সী ক্রিস ব্রড, যিনি ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক স্টুয়ার্ট ব্রডের বাবা, ২০০৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আইসিসির ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, একটি ম্যাচে (তারিখ-স্থান উল্লেখ করেননি) ভারত স্লো ওভার রেটের কারণে তিন-চার ওভার পিছিয়ে ছিল, যার জন্য জরিমানা হওয়ার কথা। কিন্তু তাঁকে ফোন করে বলা হয়, “সহানুভূতিশীল হন, কিছু সময় বের করুন। কারণ এটি ভারত।” ব্রড বলেন, “আমি ভাবলাম, ঠিক আছে। তারপর আমরা কোনোভাবে কিছু অতিরিক্ত সময় বের করলাম, যাতে ওভার রেট জরিমানা সীমার নিচে নিয়ে আসা যায়।”
পরের ম্যাচে সৌরভ গাঙ্গুলী দ্রুত ওভার শেষ করার নির্দেশ শুনছিলেন না। ব্রড ফোন করে জানতে চান, “এখন কী করব?” উত্তর আসে, “শুধু তাকে (জরিমানা) করো।” ব্রডের মতে, তৎকালীন আইসিসি আম্পায়ার ম্যানেজার ভিনস ভ্যান ডের বিজল ক্রিকেট ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসায় সহায়তা করতেন। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়ে। “এখন ভারতের কাছে সব অর্থ, নানা উপায়ে আইসিসিকে তারা নিয়ন্ত্রণ করছে। আমি খুশি যে এখন আর সেই পরিবেশে নেই। কারণ, এটি এখন অনেক বেশি রাজনৈতিক হয়ে গেছে।”
ব্রড আরও কাজ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আইসিসি তার চুক্তি নবায়ন করেনি। তিনি ২০০৯ সালের লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন। দীর্ঘ ২০ বছরের ক্যারিয়ারে নানা বিপদের মুখোমুখি হয়েছেন। “রাজনৈতিক ও শারীরিকভাবে অনেক বিপদের হাত থেকে বেঁচে গেছি। ২০ বছর অনেক লম্বা সময়। এখন কিছু জায়গায় না যাওয়ায় বরং ভালো লাগছে।”


















































































































































































































































































































































































































































