মিসরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর জয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চের এক ম্যাচে দুটি ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে ফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন এই মহাতারকা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য আর্জেন্টিনার জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন মেসি। এরপর এক পর্যায়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের চরম শঙ্কায় পড়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে দলের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে আবারও ত্রাতা হয়ে আসেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে তার নিখুঁত পাস থেকে গোল করেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলে সহায়তার সংখ্যা দাঁড়ায় ৯-এ, যা কিংবদন্তি দিয়েগো মারাডোনার দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে তাকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলে সহায়তাকারী ফুটবলারে পরিণত করে। এর আগেই তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছিলেন।
সহায়তার রেকর্ড গড়ার পর মেসি ইতিহাস গড়েন নিজের করা সমতাসূচক গোলে। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ছয়টি ম্যাচে গোল করার অনন্য নজির গড়লেন তিনি, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১-এ, যার মধ্যে চলতি আসরেই তিনি করেছেন আটটি গোল। ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী আসরে গিয়ের্মো স্তাবিলের পর দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে আট গোল করার কীর্তি গড়লেন মেসি। এছাড়া বিশ্বমঞ্চে এই নিয়ে টানা ৯ ম্যাচে গোল করার অবিশ্বাস্য রেকর্ডও গড়লেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন দ’র জয়ী এই তারকা।
আরও পড়ুন: ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তদন্তের দাবি
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের যোগ করা সময়ে এনসো ফার্নান্দেসের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে আলবিসেলেস্তেরা। পেনাল্টি মিসের হতাশা পেছনে ফেলে মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, ৩৯ বছর বয়সেও তার ফুটবল মেধা, নেতৃত্ব এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা এখনো বিশ্বসেরা। বিশ্বসেরার এই কীর্তিতে আর্জেন্টিনার পাশাপাশি উল্লাসে মেতেছেন তার সাবেক ক্লাব বার্সেলোনার সমর্থকরাও।




















































































































































































































































































































































































































































1 comment on “মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন”