লিওনেল মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ঘিরে মঙ্গলবার আবেগে ভাসল আর্জেন্টিনা। সাবেক ও বর্তমান সতীর্থ থেকে শুরু করে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের বাইরে অশ্রুসিক্ত সমর্থক—দেশটির ফুটবল কিংবদন্তিকে বিদায় জানাতে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বার্তা জানিয়েছেন সবাই।
মেসির সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি সতীর্থ এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু ব্রাজিলের নেইমার জানান, আর্জেন্টাইন তারকার ফুটবলে অবদানের জন্য পুরো বিশ্বেরই কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের ২০৮তম ও শেষ ম্যাচে মাঠে নামার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমার লেখেন, ‘শুধু আর্জেন্টিনা নয়, ফুটবলের জন্য তুমি যা করেছ, তার জন্য পুরো বিশ্ব তোমাকে ধন্যবাদ জানায়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শেখানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তোমার বিপক্ষে খেলতে পারা আমার জন্য সম্মানের ছিল, আর তোমার সঙ্গে ইতিহাসের অংশ হতে পারা ছিল আরও বড় সম্মানের।’
মেসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আর্জেন্টিনার সতীর্থ রদ্রিগো দে পল, যিনি ইন্টার মায়ামিতেও তার সঙ্গে খেলেন, মনে করেন মেসির প্রভাব ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর বিস্তৃত।
বিদায়ী বার্তায় দে পল বলেন, ‘সে আমাকে শুধু একজন ফুটবলার হিসেবেই বড় করেনি, একজন মানুষ হিসেবেও বড় করেছে। আমি আরও ভালো মানুষ, আরও ভালো মানবিক সত্তা, আরও ভালো ক্রীড়াবিদ, আরও ভালো বাবা এবং আরও ভালো বন্ধু হয়েছি।’
মেসিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বলতে চাই, আমি তাকে ভালোবাসি। সে জানে, সে আমার ভাইয়ের মতো এবং তার হৃদয় বিশাল।’
আর্জেন্টিনার সাবেক সতীর্থ আনহেল দি মারিয়াও বলেছেন, মেসিকে বিদায় জানানোর দিনটি কেউই চাননি।
তিনি বলেন, ‘তাকে এতটা আনন্দে এবং এমন প্রশান্তিতে দেখে যে সে নিজের সবটুকু দিয়েছে, সেটাই আমাদের সবাইকে আনন্দিত করে। সবার জন্য দিনটি হবে খুব বিশেষ। সারা জীবনের জন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ।’
বুয়েনস এইরেসে আর্জেন্টিনা ও বেনিনের প্রীতি ম্যাচ দেখতে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ছুটে আসা সমর্থকদের মধ্যেও ছিল কৃতজ্ঞতা ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।
আরও পড়ুন: আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলবেন মেসি
১৯ বছর বয়সী হোসে গারাসেদো বলেন, ‘আমি কেঁদেছি, কারণ মেসির শেষ ম্যাচটি সরাসরি দেখতে পেরেছি। আবার এটাও ভেবে কেঁদেছি যে, সে আর এখানে থাকবে না।’
মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সে এই জার্সির জন্য লড়াই করেছে। তার কাছে যা চাওয়া হয়েছে, সবকিছুর জন্যই সে লড়েছে। সে জানত কীভাবে নিজের পথ ধরে রাখতে হয়, উপভোগ করতে হয় এবং বারবার বলতে হয় যে সে লড়াই করে যাবে।’
আর্জেন্টিনাকে একটি বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মেসি শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে নামার আগে দেশের হয়ে ১২৫ গোল ও ৬৮টি গোলে সহায়তার রেকর্ড নিয়ে মাঠে নামেন।
বিদায়ের আগে নিজের অনুভূতিও সংক্ষেপে জানিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
মেসি বলেন, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি। আমি সবটুকু দিয়ে দিয়েছি।’



















































































































































































































































































































































































































































