ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ২০২৫-এর শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) ৪-০ গোলে ইন্টার মায়ামিকে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন ইন্টার মায়ামি প্রথমার্ধেই চার গোল হজম করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। মেসি, যিনি ২০২১-২০২৩ সালে পিএসজি’র হয়ে খেলেছেন, তার সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি।
পিএসজি পুরো ম্যাচে ৬৭% বল দখলে রেখে আধিপত্য বিস্তার করে। তারা ১৯টি শটের মধ্যে ৯টি লক্ষ্যে রাখে, যেখানে ইন্টার মায়ামির ৮টি শটের মধ্যে মাত্র ৩টি ছিল লক্ষ্যে। খেলার ৬ষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভেস ভিতিনিয়ার ফ্রি-কিক থেকে হেড করে পিএসজি’কে এগিয়ে দেন। ৩৯তম মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলা ও ফাবিয়ান রুইজের সমন্বিত আক্রমণে নেভেস বক্সের ভেতর থেকে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন। ৪৪তম মিনিটে দিজিরে দুয়ের ক্রসে বল আটকাতে গিয়ে ইন্টার মায়ামির ডিফেন্ডার তমাস আভিলেস আত্মঘাতী গোল করে বসেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইম (৪৫+৩) আশরাফ হাকিমি প্রথম শটে পোস্টে লাগার পর ফিরতি বলে গোল করে পিএসজি’র চতুর্থ গোলটি নিশ্চিত করেন।
প্রথমার্ধে ইন্টার মায়ামির সুপারস্টার জুটি মেসি ও লুইস সুয়ারেজ কোনো শট নিতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে মেসি ৫১তম মিনিটে জর্ডি আলবার ক্রস থেকে হেড করেন, কিন্তু পিএসজি গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা তা প্রতিহত করেন। ৮০তম মিনিটে মেসির আরেকটি হেড দোন্নারুম্মা ফিরিয়ে দেন, এবং তার ফ্রি-কিক দেওয়ালে লাগে। দ্বিতীয়ার্ধে ইন্টার মায়ামি তুলনামূলক গোছানো খেললেও কোনো গোলের দেখা পায়নি।
ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি প্রথমার্ধে তাদের ফিটনেস, কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব এবং আক্রমণাত্মক ফ্লেয়ার দিয়ে ইন্টার মায়ামিকে পুরোপুরি নিষ্প্রভ করে দেয়। মেসি মাঝমাঠে ঘোরাফেরা করলেও পিএসজি’র ডিফেন্ডারদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বল স্পর্শের সুযোগ পাননি। পিএসজি’র কোচ লুইস এনরিকে, যিনি মেসি, সুয়ারেজ, আলবা ও বুসকেতসের সঙ্গে বার্সেলোনায় ২০১৫ সালে ট্রেবল জিতেছিলেন, বলেন, “আমরা ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা শক্তি সংরক্ষণ করেছি, তবে আমাদের দলের মানসিকতা ও পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট।”
ইন্টার মায়ামির লেফট-ব্যাক জর্ডি আলবা বলেন, “পিএসজি বর্তমানে বিশ্বের সেরা দল। আমরা টুর্নামেন্টে ভালো খেলেছি, তবে তাদের বিপক্ষে জয় কঠিন ছিল। আমরা চেষ্টা করেছি।” কোচ হাভিয়ের মাশচেরানো বলেন, “আমরা গর্বিত, কারণ আমরা প্রথম এমএলএস দল হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছি। পিএসজি’র মতো দলের বিপক্ষে খেলা আমাদের জন্য বড় অভিজ্ঞতা।”
শেষ ষোলোর আরেক ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখ ৪-২ গোলে ব্রাজিলের ফ্ল্যামেঙ্গোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। পিএসজি এবং বায়ার্ন ৫ জুলাই আটলান্টায় কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে।



















































































































































































































































































































































































































































