এশিয়া কাপ ২০২৫-এর তৃতীয় ম্যাচে আজ রাত সাড়ে ৮টায় আবুধাবির শেখ জায়েদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হংকংয়ের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বে টাইগাররা শিরোপা না জিততে পারার ইতিহাস বদলাতে মুখিয়ে আছে। মঙ্গলবার অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলনে লিটন বলেন, “হ্যাঁ, আমরা তিনবার ফাইনাল খেলেও চ্যাম্পিয়নশিপের স্বাদ পাইনি। কিন্তু ইতিহাস তো ভাঙার জন্যই তৈরি হয়।”
বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও সাম্প্রতিক ফর্ম
বাংলাদেশ দল সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে সিরিজ জয়, ঘরের মাটিতে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টানা সিরিজ জয়ের পর টাইগাররা আত্মবিশ্বাস নিয়ে এশিয়া কাপে এসেছে। ঢাকা ও সিলেটে প্রায় এক মাসের ক্যাম্পে দলটি নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিয়েছে। লিটন বলেন, “আমরা সাম্প্রতিক সময়ে খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। ক্যাম্পও করেছি বেশ কিছুদিন। আমরা এশিয়া কাপের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত। সব দলই শক্তিশালী, খেলা চ্যালেঞ্জিং হবে। আমরা এই চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছি।”
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ১৪ ম্যাচে ১০৯টি ছক্কা মেরে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে টাইগাররা। গত বছর ২৪ ম্যাচে ১২২টি ছক্কা মেরে রেকর্ড গড়েছিল তারা।
এই বছর ওপেনার তানজীদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমনের আগ্রাসী ব্যাটিং দলকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তানজীদ এ বছর ২৩টি ছক্কা মেরে দলের সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানো ব্যাটসম্যান। পাওয়ার প্লেতে এই জুটির দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা বাংলাদেশের শক্তির অন্যতম অংশ।
লিটন কুমার দাস নিজেও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডস সিরিজে সিরিজ সেরা হওয়ার পাশাপাশি টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪টি ফিফটির রেকর্ড তার। তিনি দলের শুরুতে উইকেট পড়লে ইনিংসকে সামলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তবে মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয়ের ফর্ম নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও শামিম হোসেন, জাকের আলী এবং বেঞ্চে থাকা সাইফ হাসান ও নুরুল হাসান সোহান দলের গভীরতা বাড়িয়েছে। বোলিংয়ে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী ও রিশাদ হোসেনের বৈচিত্র্যপূর্ণ আক্রমণ বাংলাদেশকে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।
হংকংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ও হংকং এর আগে টি-টোয়েন্টিতে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছিল, ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে। সেই ম্যাচে হংকং অঘটন ঘটিয়ে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল। তবে সেই দলের কোনো খেলোয়াড় এবারের স্কোয়াডে নেই। হংকং সম্প্রতি এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে। তাদের ব্যাটিং বাবর হায়াতের (৩৯ রান) উপর নির্ভরশীল ছিল, এবং বোলিংয়ে আয়ুশ শুক্লা ও কিঞ্চিত শাহ কিছুটা প্রভাব ফেললেও বাংলাদেশের শক্তিশালী লাইনআপের বিপক্ষে তাদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের পিচ সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক, গড় প্রথম ইনিংসের স্কোর ১৭৬। তবে পেসাররা এখানে ৮২% উইকেট নিয়েছে, যা বোলারদের জন্য সুযোগ তৈরি করে। সন্ধ্যার ম্যাচে শিশিরের প্রভাব থাকতে পারে, যা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংকে সহজ করে। টস জিতে দলগুলো সাধারণত বোলিং বেছে নেয়। বাংলাদেশের শক্তিশালী পেস ও স্পিন আক্রমণ এই কন্ডিশনে কার্যকর হতে পারে।
আরও পড়ুন: এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ হংকংয়ের বিপক্ষে
১৯৮৪ সাল থেকে এশিয়া কাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ১৬ আসরের মধ্যে ১৫টিতে খেলে তারা তিনবার ফাইনালে উঠেছে (২০১২, ২০১৬, ২০১৮)। ২০১২ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানে হেরেছিল দলটি। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে ভারতের কাছে ফাইনালে হারে টাইগাররা। ২০১৮ সালে লিটনের ১১৭ বলে ১২১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসেও দল হেরে যায়। এবার লিটনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেই ইতিহাস বদলাতে চায়। তিনি বলেন, “আমরা ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব। চ্যালেঞ্জ থাকবে, তবে আমরা দল হিসেবে উন্নতি করতে চাই।”
সম্ভাব্য একাদশ
বাংলাদেশ: তানজীদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), তাওহীদ হৃদয়, শামিম হোসেন, জাকের আলী, শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান।
হংকং: ইয়াসিম মুর্তাজা (অধিনায়ক), বাবর হায়াত, জিশান আলি (উইকেটরক্ষক), নিজাকত খান, আনশুমান রাথ, আইজাজ খান, কিঞ্চিত শাহ, আয়ুশ শুক্লা, এহসান খান, নাসরুল্লা রানা, মোহাম্মদ গজানফর।



















































































































































































































































































































































































































































