রেসিং সান্তান্দেরকে ৭-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে বার্সেলোনা। মৌসুমের শুরুতে টানা সাত ম্যাচ জিতে কাতালান ক্লাবটি প্রথমবারের মতো এমন কীর্তি অর্জন করেছে।
দলের বিশাল জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন রাফিনহা। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড হ্যাটট্রিক করেছেন, যার দুটি এসেছে পেনাল্টি থেকে। নতুন করে সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রাফিনহা লিগের প্রথম ছয় ম্যাচেই করেছেন ৯ গোল। এক মৌসুমের শুরুতে লিগের প্রথম ছয় ম্যাচে এতগুলো গোল করার রেকর্ড ২০১৭-১৮ মৌসুমের পর আর কোনো খেলোয়াড়ের ছিল না। সেই সময় বার্সেলোনার হয়ে ৯ গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি।
ম্যাচ শেষে রাফিনহা বলেন, ‘গোল করতে পেরে এবং দল জিততে পেরে আমি খুশি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জয়। ব্যক্তিগতভাবে এবং দল হিসেবে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। প্রতিটি খেলোয়াড়ের মধ্যে আরও কিছু করার, আরও গোল ও সুযোগ তৈরির ক্ষুধা দেখা যাচ্ছে। মাঠেই বোঝা যায়, দল হিসেবে আমরা কতটা কাছাকাছি।’
বার্সেলোনার হয়ে গোল পেয়েছেন লামিনে ইয়ামালও। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাত ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই অন্তত পাঁচ গোল করেছে বার্সা। হান্সি ফ্লিকের দল লিগে প্রথম ছয় ম্যাচে মোট ২৮ গোল করেছে। লিগের ইতিহাসে এই সময়ে এর চেয়ে বেশি গোল করা একমাত্র দল সেভিয়া। ১৯৪০-৪১ মৌসুমে তারা প্রথম ছয় ম্যাচে ৩২ গোল করেছিল।
মৌসুমের শুরুতে টানা ছয় জয় এবং গোল ব্যবধানের দিক থেকে বার্সেলোনার চেয়ে ভালো নজির রয়েছে শুধু রিয়াল মাদ্রিদের। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে প্রথম ছয় ম্যাচ শেষে তাদের গোল ব্যবধান ছিল প্লাস ২৪। বার্সার বর্তমান গোল ব্যবধান প্লাস ২২।
ফ্লিক ম্যাচ শেষে বলেন, ‘ভালোভাবে শুরু করতে পারা দারুণ ব্যাপার। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দুর্দান্তভাবে শেষ করা। এমন শুরু আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। দলের ছন্দ ও তীব্রতা আমার ভালো লাগছে। সবাই চাপ তৈরি করছে, সবাই অবদান রাখছে। দল হিসেবে আমরা যেভাবে কাজ করছি, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
বুধবারের ম্যাচে বার্সেলোনার গোল উৎসবের সূচনা করেন জোয়াও কানসেলো। প্রায় ২৩ মিটার দূর থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার। পরে তার আরেকটি দূরপাল্লার শট আসিয়ের ভিয়ালিব্রের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢোকে, যা আত্মঘাতী গোল হিসেবে লেখা হয়।
নতুন ক্লাবের হয়ে টানা দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে গোল করেছেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ইয়ামালের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি এবং একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের শেষ দিকে গোলের দেখা পান এই তরুণ তারকা।
আরও পড়ুন: লা লিগায় রিয়ালের কষ্টার্জিত জয়, মরিনহোর ক্ষোভ
প্রথমার্ধ শেষে হাঁটুর চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বার্সেলোনার মূল গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া। ফ্লিক জানিয়েছেন, শনিবারের পরবর্তী লিগ ম্যাচে গার্সিয়াকে পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
দ্বিতীয়ার্ধে গার্সিয়ার বদলে গোলপোস্ট সামলান ভয়চেখ শেজনি। তবে নিজের ডি-বক্সের ভেতর একটি বড় ভুল করে বসেন তিনি। গোলের সামনে বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে রেসিং সান্তান্দেরের দ্বিতীয় গোলটি করেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়।
শেজনির ভুল নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘অবশ্যই টেক একটি ভুল করেছে। কিন্তু আমরা সবাই ভুল করি। এটা জীবনেরই অংশ। পরেরবার সে আরও ভালো করবে। আমাকে বিশ্বাস করুন।



















































































































































































































































































































































































































































