২০২৫ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) ফাইনালে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ের দ্বারপ্রান্তে। ২৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রোটিয়ারা ৫৬ ওভারে ২ উইকেটে ২১৩ রান তুলেছে, জয়ের জন্য প্রয়োজন আর মাত্র ৬৯ রান, হাতে ৮ উইকেট। এই অবিশ্বাস্য অবস্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ওপেনার এইডেন মার্করামের (১০২*, ১৫৯ বল) ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক তেম্বা বাভুমার (৬৫*, ১২১ বল) অপরাজিত অর্ধশতক। তৃতীয় দিনে ১৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে তারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথম আইসিসি ট্রফি জয়ের (১৯৯৮ সালের পর) স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।
মার্করামের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি:৩০ বছর বয়সী মার্করাম তার টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি (১৫৬ বলে, জশ হ্যাজলউডের বলে বাউন্ডারি মেরে) তুলে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন:
- প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে আইসিসি ফাইনালে সেঞ্চুরি: মার্করাম প্রথম প্রোটিয়া ব্যাটার যিনি কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে শতরান করলেন। এর আগে ১৯৯৮ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে (ঢাকা) হ্যান্সি ক্রনিয়ের ৬১ রান ছিল সর্বোচ্চ।
- লর্ডসে ডব্লিউটিসি ফাইনালে তৃতীয় সেঞ্চুরিয়ান: মার্করাম লর্ডসে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ব্যাটার, অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ ও ট্রাভিস হেডের পর।
- লর্ডসে আইসিসি ফাইনালে তৃতীয় সেঞ্চুরি: আইসিসি ইভেন্টের ফাইনালে (ওয়ানডে ও টেস্ট) লর্ডসে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ব্যাটার, ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ক্লাইভ লয়েড ও ভিভ রিচার্ডসের পর।
- লর্ডসে চতুর্থ ইনিংসে ষষ্ঠ বিদেশী সেঞ্চুরিয়ান: টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে লর্ডসে শতক করা ষষ্ঠ বিদেশী ব্যাটার। তালিকায় আছেন গর্ডন গ্রিনিজ (২১৪*, ১৯৮৪), রয় ফ্রেডরিক্স (১৩৮, ১৯৭৬), মাইকেল ক্লার্ক (১৩৬, ২০০৯), অজিত আগারকার (১০৯*, ২০০২), ডন ব্র্যাডম্যান (১০২*, ১৯৩৮)।
- চতুর্থ ইনিংসে তৃতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি (ওপেনার): টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ওপেনারদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ তিনটি সেঞ্চুরি (২০১৮, ২০২১, ২০২৫), সুনিল গাভাস্কার ও গ্রায়েম স্মিথের (৪টি) পর।
- লর্ডসে ডাক ও সেঞ্চুরি: প্রথম ইনিংসে ডাক (০) ও দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করা লর্ডসের নবম ব্যাটার, তৃতীয় দক্ষিণ আফ্রিকান (মাইকেল ভন, মিসবাহ-উল-হকের পর)।
- ইংল্যান্ডে সেঞ্চুরি ও উইকেট: একই টেস্টে শতরান ও উইকেট নেওয়া পঞ্চম দক্ষিণ আফ্রিকান (ব্রুস মিচেল, গ্রেইম পোলক, জ্যাক কালিসের পর)। মার্করাম অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে স্টিভ স্মিথের উইকেট নিয়েছিলেন।
তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৭ রানে অলআউট হয় (মিচেল স্টার্ক ৫৮*, কাগিসো রাবাদা ৪/৫২), দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ২৮২ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। দিনের শুরুতে স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডের ৫৯ রানের শেষ উইকেট জুটি অস্ট্রেলিয়াকে ২৮১ রানের লিড এনে দেয়। তবে, রোদ ঝলমলে লর্ডসের পিচ তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক হয়ে ওঠে, যেখানে প্রথম দুই দিনে ২৮ উইকেট পড়েছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ভালো হয়নি, মিচেল স্টার্ক রায়ান রিকেলটন (৬) ও উইয়ান মুল্ডারকে (২৭) ফিরিয়ে ১৮ ওভারে স্কোর ৭০/২ করেন। তবে, মার্করাম ও বাভুমা (হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি নিয়েও অপরাজিত) অস্ট্রেলিয়ার তারকা বোলিং আক্রমণ (প্যাট কামিন্স, নাথান লায়ন, হ্যাজলউড, স্টার্ক) মোকাবিলা করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। বাভুমার অর্ধশতক এবং মার্করামের প্রায় নিখুঁত ব্যাটিং (১৫৯ বলে ১০২, কোনো উল্লেখযোগ্য ভুল ছাড়া) দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের পথ প্রশস্ত করে।
রেকর্ড ও তাৎপর্য:
- মার্করামের এই ইনিংস তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা, বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে ডাকের পর। তিনি ২০১৮ ও ২০২১ সালে চতুর্থ ইনিংসে সেঞ্চুরি করলেও দল হেরেছিল; এবার জয়ের সম্ভাবনা প্রবল।
- দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর কোনো পুরুষ আইসিসি ট্রফি জিতেনি। এই জয় তাদের “চোকার” তকমা ঘুচাতে পারে।
- লর্ডসে চতুর্থ ইনিংসে ২৮২ রানের লক্ষ্য ঐতিহাসিকভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া হবে, যদি দক্ষিণ আফ্রিকা জেতে।
- বাভুমা ইনজুরি নিয়েও অপরাজিত থাকায় দলের মনোবল বেড়েছে। স্টিভ স্মিথ বাভুমার ক্যাচ ফেলে আঙুলে চোট পান, যা অস্ট্রেলিয়ার জন্য ধাক্কা।
অস্ট্রেলিয়া, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, চতুর্থ দিনে তাদের সেরা বোলিং দিয়ে ম্যাচে ফিরতে চাইবে। তবে, পিচের অবস্থা এবং মার্করাম-বাভুমার ফর্ম তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নাথান লায়ন ও ট্রাভিস হেড স্পিনে কিছু টার্ন পেলেও উইকেট নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যাবর্তনের জন্য “অসাধারণ” কিছু প্রয়োজন।


















































































































































































































































































































































































































































