ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানজট-newsedge4

শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যমুনা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে টাঙ্গাইলের বিক্রমহাটি পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে, যা যানজটের প্রধান কারণ। এছাড়া একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা, গাড়ি বিকল হওয়া এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

যানজটের কারণ ও ভোগান্তি:

  • অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ: ঈদের ছুটি শেষে ঢাকামুখী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে যমুনা সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত যানজট অব্যাহত ছিল, বিশেষ করে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে।
  • সড়ক দুর্ঘটনা ও গাড়ি বিকল: যমুনা হাইওয়ে পূর্ব থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, শুক্রবার মধ্যরাতে কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনা যানজটকে আরও তীব্র করেছে। গাড়ি বিকল হওয়াও এতে ভূমিকা রেখেছে।
  • গণপরিবহন সংকট: গণপরিবহনের স্বল্পতার কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় খোলা ট্রাক ও পিকআপে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করছেন।
  • ভোগান্তি: সাধারণত ১ ঘণ্টার পথ ৩-৪ ঘণ্টায় অতিক্রম করতে হচ্ছে। গরম আবহাওয়া এবং দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বিশেষভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির পাভেল জানান, যানজট নিয়ন্ত্রণে সেতুর দুই পাশে ১৮টি টোল বুথ চালু রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৪টি বুথ মোটরসাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট। এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং চলছে।এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ শরীফ উদ্দিন জানান, সিরাজগঞ্জ অংশে যানবাহন পারাপারে বিলম্বের কারণে যানজট তীব্র হয়েছে। পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে, তবে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ এটিকে জটিল করেছে।

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ১৩ জুন থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করে, যা শনিবার সকালে শীর্ষে পৌঁছায়। এই যানজট শুধু যাত্রীদের ভোগান্তিই বাড়ায়নি, বরং গণপরিবহনের স্বল্পতা ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে অর্থনৈতিক চাপও তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে, অনেকে সরকারি ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেছেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার যানজট ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার ব্যাপক চাপের প্রতিফলন। অতিরিক্ত যানবাহন, দুর্ঘটনা এবং গণপরিবহনের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, যানজট পুরোপুরি নিরসন না হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *