ফুটবল বিশ্বে যোগ হলো এক নতুন এবং ঐতিহাসিক অধ্যায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার প্রবর্তিত সম্পূর্ণ নতুন এক নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে মাঠ থেকে সরাসরি বহিষ্কৃত (লাল কার্ড) হয়েছেন প্যারাগুয়ের তারকা মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরন। তুরস্কের বিপক্ষে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার সময় হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলায় তাঁকে এই চরম শাস্তি পেতে হয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৪৫+৩ মিনিট) ঘটে এই নজিরবিহীন ঘটনা। মাঠের ভেতর তুরস্কের ডান প্রান্তের ডিফেন্ডার মের্ত মূলদুরের সঙ্গে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কিছু একটা বলছিলেন আলমিরন। বিষয়টি নজর এড়ায়নি ম্যাচের দায়িত্বরত সালভাদরের রেফারি ইভান বার্তনের। তিনি তৎক্ষণাৎ ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন এবং নতুন নিয়ম অনুযায়ী আলমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন।
কেন এই নতুন নিয়ম?
ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ফুটবলার প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ, সংঘাতপূর্ণ বা তর্কাতর্কির পরিস্থিতিতে হাত বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলতে পারবেন না। যদি কেউ তা করেন, তবে রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন। মূলত ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় বেনফিকার উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি ও রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে তৈরি হওয়া এক বিতর্কিত ঘটনার পর এই কঠোর নিয়ম চালু করে ফিফা। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—খেলোয়াড়রা যেন মাঠে বর্ণবাদী, স্লেজিং বা কোনো ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করে মুখ ঢেকে তা আড়াল বা গোপন করতে না পারেন। তবে নতুন নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, স্বাভাবিক বা বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপের সময় মুখ ঢাকলে কোনো সমস্যা নেই, কেবল সংঘাতের সময়ই এটি অপরাধ বলে গণ্য হবে।
এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্যারাগুয়ের মাত্র তৃতীয় লাল কার্ডের ঘটনা। এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে দেশটির কার্লোস পারেদেস ও রবার্তো আকুনিয়া লাল কার্ড দেখেছিলেন। অন্যদিকে চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে এটি সপ্তম লাল কার্ড, যা ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের (১০টি লাল কার্ড) পর সর্বোচ্চ বহিষ্কারের রেকর্ড।
আরও পড়ুন: কুনিয়ার জোড়া গোল ও ভিনি ম্যাজিকে ৩-০ গোলে জিতল ব্রাজিল
অবশ্য ১০ জনের দলে পরিণত হলেও ম্যাচটিতে দারুণ এক জয় পেয়েছে প্যারাগুয়ে। খেলার মাত্র ১ মিনিট ৫ সেকেন্ডের মাথায় দূরপাল্লার এক শক্তিশালী শটে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন মাতিয়াস গালারজা। এটি চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড। শেষ পর্যন্ত এই ১-০ গোলের লিড ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে প্যারাগুয়ে। এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে নকআউট বা শেষ বত্রিশ পর্বে যাওয়ার লড়াইয়ে প্যারাগুয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করলেও, আসর থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে তুরস্কের।



















































































































































































































































































































































































































































1 comment on “ফুটবল ইতিহাসে নতুন নিয়মে প্রথম লাল কার্ড দেখলেন আলমিরন”