তারেক রহমান-tarique rahman-newsedge24

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন বেইজিং সফরে শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতাই নয়, বরং রাজনৈতিক ও ভূকৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়গুলোও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই সফরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ‘তৃতীয় যৌথ ইশতেহার’ ঘোষণা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ২৬ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর এই যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। এর আগে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা এবং ২০০৫ সালে সম্পর্কের তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অবকাঠামো, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কৃষি, পানি সম্পদ, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে এক ডজনেরও বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি নতুন মেগা প্রকল্পগুলোতে চীনা অর্থায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল রোববার দুই দিনের সফরে প্রথমে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন তিনি। এরপর সোমবার মালয়েশিয়া সফর শেষে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক ও রাজনৈতিক মাত্রা

চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। এছাড়া চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এই ধারাবাহিক বৈঠক দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

কূটনৈতিক সূত্রে আরও জানা গেছে, এই সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (CPC) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষাই পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জিডিআই-এ যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বা ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (GDI)-এ বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এই উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশকে এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল বেইজিং। সফরকালে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে ২০১৬ সালে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI)-এ যোগ দেওয়ার প্রায় এক দশক পর চীনের কোনো বড় আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

2 comments on “প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে ঘোষণা হচ্ছে তৃতীয় যৌথ ইশতেহার”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *