ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) বিতর্কের জেরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের একমাত্র আইসিসি এলিট প্যানেলের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত, যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের শাস্তি কমানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে।
১২ এপ্রিল আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যকার ডিপিএল ম্যাচ। ম্যাচ চলাকালীন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা সৈকতের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তাওহীদ হৃদয় তর্কে জড়ান। তিনি মাঠে এবং ম্যাচ শেষে আম্পায়ারদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, যা বিসিবির নিয়ম ভঙ্গের শামিল। প্রাথমিকভাবে হৃদয়ের বিরুদ্ধে এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, এবং নিয়ম অনুযায়ী তাকে আরও এক ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকার কথা ছিল।
কিন্তু বিসিবির আম্পায়ার্স বিভাগ টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে হৃদয়ের নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে দেয়। এই সিদ্ধান্ত আম্পায়ারদের মর্যাদা এবং পেশাগত নৈতিকতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখেন শরফুদ্দৌলা। ফলে, তিনি নিজের সম্মান ও পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে বিসিবির চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একজন পথিকৃৎ। ২০২৪ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আইসিসি এলিট প্যানেলে স্থান পান এবং ২০২৩ সালে পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে আম্পায়ারিং করে ইতিহাস গড়েন। তিনি ১০টি টেস্ট, ৬৩টি ওয়ানডে, এবং ৪৪টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন।
তার এই সিদ্ধান্ত কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভের প্রকাশ নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটে আম্পায়ারদের প্রতি অবিচার এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা। বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, শরফুদ্দৌলার সিদ্ধান্ত বোর্ড পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং আজ ২৩, এপ্রিলের সভায় এটি আলোচনার বিষয় হবে। যদিও শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি, তার সিদ্ধান্ত দৃঢ় বলে জানা গেছে।
এটি প্রথম নয় যে আম্পায়ারিংয়ে হস্তক্ষেপের জেরে কোনো আম্পায়ার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২১ সালে ডিপিএলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং শাকিব আল হাসানের অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে আম্পায়ার মনিরুজ্জামান পদত্যাগ করেছিলেন। এছাড়া, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার এনামুল হকও আম্পায়ারিংয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের কারণে পদত্যাগ করেছিলেন। শরফুদ্দৌলার এই সিদ্ধান্ত সেই তালিকায় নতুন সংযোজন।























































































































































































































































































































































































































































































