আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ওপর ভারতের প্রভাব বিস্তার এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর কোনো অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি সাফ জানিয়েছেন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কারো দাদাগিরি বা অন্যায্য কোনো সিদ্ধান্ত মুখ বুজে সহ্য করবে না।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল এই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং এশিয়া কাপের ভেন্যু নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার টানাপোড়েনে আইসিসি’র ভূমিকা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই শক্ত বার্তা এলো। মূলত বিসিসিআই-এর (BCCI) প্রভাবে আইসিসি যদি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ঢাকা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাবে—এটাই ছিল তার বক্তব্যের মূল সুর।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, “ক্রিকেট একটি খেলা, এখানে কোনো বিশেষ দেশের মোড়লগিরি চলার কথা নয়। আমরা লক্ষ্য করছি, ভারতের চাপে অনেক সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বর্তমান বাংলাদেশ আর আগের মতো নেই। আইসিসি যদি এমন কোনো শর্ত দেয় যা আমাদের ক্রিকেটীয় মর্যাদা বা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী, তবে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে দ্বিধা করব না।”
দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের আধিপত্য বা ‘বিগ থ্রি’ তত্ত্ব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে আইসিসির আয়ের সিংহভাগ ভারতের পকেটে যাওয়া এবং সূচি নির্ধারণে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছোট দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ। আসিফ নজরুল ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ এখন থেকে আন্তর্জাতিক ফোরামে নিজের অধিকার আদায়ে আরও বেশি সোচ্চার হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা ক্রিকেটের উন্নয়ন চাই, কিন্তু তা হতে হবে সমতার ভিত্তিতে। ভারত যদি নিরাপত্তার অজুহাতে বা অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণে আইসিসিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আমাদের ওপর কোনো শর্ত চাপাতে চায়, তবে বিসিবিকে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসিফ নজরুলের এই মন্তব্য কেবল খেলার মাঠের বিষয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ‘রেসিপ্রোসিটি’ বা পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে সম্পর্কের যে দাবি বর্তমান সরকার তুলছে, তারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই ক্রিকেটীয় অবস্থানকে।
সাবেক ক্রিকেটার এবং ক্রীড়া ভাষ্যকারদের মতে, আইসিসির নীতিনির্ধারণী সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। ভারতের ক্রিকেটীয় অর্থের কাছে আইসিসি অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়লেও, নৈতিকতা এবং আইনের লড়াইয়ে বাংলাদেশ জয়ী হতে পারে।



















































































































































































































































































































































































































































