আগামী জাতীয় নির্বাচনকে দেশের মানচিত্র ও অস্তিত্ব রক্ষার এক ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ কি একটি গণতান্ত্রিক ও উদারপন্থী রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকবে, নাকি উগ্রবাদীদের কবলে পড়বে।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি বর্তমান সময়কে জাতির জন্য এক ‘সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “আমরা এখন যে লড়াই করছি, তা কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়। এটি একটি আদর্শিক লড়াই। দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৫ বছর পর তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। এই সুযোগ হেলায় হারালে জাতিকে চরম মূল্য দিতে হবে।”
মির্জা ফখরুলের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে দেশে একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, একটি গোষ্ঠী জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “ভেতরে-ভেতরে খবর নিয়ে দেখুন, যারা বড় গলায় বলছে নির্বাচন হতে দেবে না, তাদের তিন শতাংশ ভোটও নেই। তারা মূলত দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।”
বিএনপি মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপি উদারপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং তারা ধর্মীয় উগ্রবাদের ঘোর বিরোধী। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদাহরণ টেনে বলেন, বিএনপি সবসময়ই আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা রেখে মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতি করেছে। এবারের নির্বাচনে জয়ী হলে বিএনপি ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি’ বা ভূমিধস বিজয় পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য মূলত আন্তর্জাতিক মহল এবং তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ কোনোভাবেই উগ্রবাদের দিকে ঝুঁবে না, বরং একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবেই বিশ্বদরবারে পরিচিতি পাবে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে ‘নতুন বাংলাদেশের’ স্বপ্ন মানুষ দেখছে, সেই স্বপ্নের সঠিক বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































