নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিন প্রধান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশি পাহারায় সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
বুধবার বিকেল ৩টার দিকে সৈয়দপুর থেকে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে বেলাল উদ্দিন প্রধানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আটকের পর থেকেই তিনি বুকে ব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রাথমিক পরীক্ষায় শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ করায় বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।
আটক ও ঘটনার প্রেক্ষাপট
ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার সকালে। বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীরা সন্দেহভাজন হিসেবে বেলাল উদ্দিন প্রধানকে তল্লাশি করেন। এ সময় তার কাছে থাকা ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়, যার সঠিক উৎস বা বৈধ কোনো নথিপত্র তিনি দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরই তাকে আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হেফাজতে নেয়।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, মাওলানা বেলাল উদ্দিন বেসরকারি একটি বিমানে করে ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নির্বাচনের ঠিক আগের দিন এত বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে তার ঢাকা যাত্রা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে উদ্ধারকৃত টাকার সঠিক পরিমাণ নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেস রিলিজ দেয়নি পুলিশ।
পুলিশ ও চিকিৎসকদের বক্তব্য
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের একজন কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, “রোগীকে যখন আনা হয়, তখন তিনি তীব্র বুকে ব্যথার কথা বলছিলেন। তার ইসিজি ও কিছু রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অবস্থা স্থিতিশীল হলেও উদ্বেগমুক্ত বলা যাচ্ছে না।”
এদিকে, নীলফামারী জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জামায়াত নেতাকে আটকের পর আইনি প্রক্রিয়া চলাকালেই তিনি অসুস্থ বোধ করেন। মানবিক কারণে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়
আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে একজন প্রভাবশালী জেলা আমিরের এভাবে টাকাসহ আটক হওয়া এবং পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে পড়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঠাকুরগাঁও জামায়াতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দাবি করা হয়েছে, এটি তাদের নেতার বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তবে বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস সম্পর্কে দলটির পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসন খতিয়ে দেখছে যে এই অর্থ নির্বাচনের কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল কি না। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাওলানা বেলাল উদ্দিনের সাম্প্রতিক কল রেকর্ড ও আর্থিক লেনদেনের ইতিহাস পর্যালোচনা করছে।
বেলাল উদ্দিন প্রধানের এই অসুস্থতা এবং আটক হওয়ার ঘটনাটি উত্তরের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচনের আগমুহূর্তে এই ঘটনা সাধারণ ভোটারদের মাঝেও আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সুস্থ হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে এই বিপুল অর্থের উৎস সম্পর্কে তিনি কী তথ্য প্রদান করেন। টাকার উৎস প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং বা নির্বাচন বিধি ভঙ্গের কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






























































































































































































































































































































































