গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্যতম আসামি স্বাধীন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। শনিবার (৯ আগস্ট ২০২৫) সকাল ১১টায় গাজীপুরের পোড়াবাড়ী র্যাব-১ ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার কে. এম. এ. মামুন খান চিশতী।
ঘটনার বিবরণ ও স্বীকারোক্তি
র্যাব জানায়, শুক্রবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে গাজীপুর মহানগরীর শিববাড়ী এলাকা থেকে স্বাধীন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বাধীন সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তিনি জানান, তুহিন একটি ছিনতাইয়ের ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছিলেন, যা মুছে ফেলতে বলা হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এর জেরে তাকে হত্যা করা হয়।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তার শাপলা ম্যানশনের সামনে বাদশা মিয়া নামে এক ব্যক্তি এক নারীকে মারধর করছিলেন। এ সময় ৬-৭ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাদশাকে আক্রমণ করে। সাংবাদিক তুহিন এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। হামলাকারীরা তাকে ভিডিও মুছে ফেলতে বললেও তিনি নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তা করতে অস্বীকার করেন। পরে পাশের ঈদগাঁ মার্কেটের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নেওয়ার পরও দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।
গ্রেপ্তার ও মামলা
র্যাব ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের পৃথক অভিযানে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের শনিবার দুপুরে আদালতে তোলা হবে। এর আগে, পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছিল, যারা বর্তমানে বাসন থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রয়েছেন।
শুক্রবার সকালে নিহত তুহিনের বড় ভাই মো. সেলিম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হত্যার পেছনে ছিনতাইয়ের ভিডিও ধারণ এবং তা মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি মূল কারণ।
পুলিশ ও র্যাবের বক্তব্য
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ-উত্তর) রবিউল হাসান বলেন, “এক নারীকে মারধরের ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিক তুহিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও র্যাবের একাধিক টিম কাজ করছে।” তিনি আরও জানান, চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি ছিনতাই চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা নারীদের ব্যবহার করে ফাঁদ পেতে ছিনতাই করে। এই চক্রের সদস্যরাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাব-১ এর কমান্ডার মামুন খান চিশতী বলেন, “স্বাধীনের স্বীকারোক্তি এবং সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।”
আরও পড়ুন: টঙ্গীতে ট্রাভেল ব্যাগে খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত
গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিনের হত্যার প্রতিবাদে শনিবার সকালে গাজীপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সভার আয়োজন করে সাংবাদিক ইউনিয়ন। সাংবাদিকরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, এবং চাঁদাবাজি ও ছিনতাইকারীদের মদদদাতাদের চিহ্নিত করতে হবে। গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এই কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ফজলুল হক মোড়ল, ফারদিন ফেরদৌস, মাসুদ রানা, মাজহারুল ইসলাম, মাহমুদা শিকদার প্রমুখ।































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































