অজ্ঞান-পার্টির সদস্য নিজেই অজ্ঞান-newsedge24

খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩০ আগস্ট ২০২৫) ভোরে, ট্রেনে থাকা দুই নারী যাত্রী, মা কৌশিলা রায় (৫২) এবং তাঁর মেয়ে বীথি রানীকে (২৮) কৌশলে অজ্ঞান পার্টির সদস্য ফুল মিয়া (৫৫) চেতনানাশক জুস পান করান। মা এবং মেয়ে জ্ঞান হারালে ফুল মিয়া তাঁদের কানের দুল ও নাকের ফুল খুলে নেন। তবে, পাশের যাত্রী অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আবদুর রহিম ঘটনাটি আঁচ করতে পেরে ফুল মিয়াকে হাতেনাতে আটক করেন।

ঘটনাটি ঘটে দিনাজপুরের বিরামপুর রেলস্টেশন থেকে সৈয়দপুর রেলস্টেশনের উদ্দেশে যাত্রার সময়। ফুল মিয়া, যিনি পাশের সিটে ছিলেন, আলাপচারিতার মাধ্যমে কৌশিলা ও বীথির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে তাঁদের জুস পান করান। জুস পানের পরপরই তাঁরা অজ্ঞান হয়ে পড়লে ফুল মিয়া তাঁদের গহনা খুলে নেন। আবদুর রহিমের সন্দেহ হলে ফুল মিয়াকে আটক করা হয়, এবং বগির অন্য যাত্রীদের সহযোগিতায় তাঁর প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পায়। যাত্রীরা ফুল মিয়াকে তাঁর কাছে থাকা জুস পান করতে বাধ্য করলে তিনি নিজেও অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

ট্রেনে দায়িত্বরত রেলওয়ে পুলিশকে তাৎক্ষণিক অবগত করা হলে তারা সৈয়দপুর রেলস্টেশনে পৌঁছে কৌশিলা রায়, বীথি রানী এবং ফুল মিয়াকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন। শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কৌশিলা ও বীথির জ্ঞান ফিরলেও ফুল মিয়ার জ্ঞান ফেরেনি।

রেলওয়ে পুলিশ জানায়, ফুল মিয়ার বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার আবদুল্লাপুরে। তিনি একজন পেশাদার অপরাধী এবং তাঁর নামে দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে থানায় অজ্ঞান করে লুটপাটের একাধিক মামলা রয়েছে। ভুক্তভোগী কৌশিলা রায় দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের রশনী রায়ের স্ত্রী, এবং বীথি রানী ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার করনাই দক্ষিণ মালঞ্চ গ্রামের উজ্জ্বল রায়ের স্ত্রী।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে গরু চোর সন্দেহে ২ ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ-উন নবী জানান, এ ঘটনায় কৌশিলা রায়ের ছেলে রবীন্দ্র নাথ রায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ফুল মিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এবং তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *