আইজিপি-আলী হোসেন ফকির-newsedge24

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গতকাল দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ কথা জানান।

আইজিপি বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পুলিশ প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী—এই তিন স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। দুর্গাপূজার আনন্দঘন পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে সকলের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি আশা প্রকাশ করেন যে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও পূজা নিরাপদে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে।

তিনি জানান, পূজা চলাকালে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ অন্যান্য ইউনিটে নিরবচ্ছিন্ন মনিটরিং সেল চালু রাখা হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, এসআরইউ-এর অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, এসআরবি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জি এম আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সায়েদুর রহমান, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ভারপ্রাপ্ত) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান, হাইওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ, এসবি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. কামরুল আহসান। এছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব বা ছবি আপলোড করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং পূজামন্ডপ নিয়মিত পরিদর্শনের জন্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ অ্যাকাডেমি ও কারাগার স্থানান্তর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করা হয়। একই সঙ্গে পূজা চলাকালে সিসিটিভি সক্রিয় রাখা, পূজামন্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো ও স্ট্যান্ডবাই জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা এবং প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের প্রতি।

উল্লেখ্য, এ বছর দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। পুলিশের এসব প্রস্তুতি ও নির্দেশনা পূজার নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *