শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা ও সংঘাত কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেছেন, এই সংঘাত এড়ানো যেত কিনা, নির্ধারিত সময়ের আগে একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করে রেখেছিল, সেখানে লাঠিসোটা জড়ো করা হয়েছিল কেন, সবার অনুরোধ উপেক্ষা করে জামায়াতের প্রার্থী কেন সংঘাতের পথ বেছে নিলেন—এসব বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, শেরপুরে স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে প্রত্যেক দলের জন্য আসন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ সব আসন তথা চেয়ার দখল করে রেখেছিলেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্ধারিত আসনে বসতে দিচ্ছিলেন না।

প্রশাসন বারবার আহ্বান জানানোর পরেও তারা চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। চেয়ারে বসার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা ও সংঘাত হয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। গণঅভ্যুত্থানের পর সবার প্রত্যাশা ছিল উৎসবমুখর নির্বাচন, সংঘাতময় নয়।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি বিশ্বাস করে যে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ বিএনপিই বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবে। সুতরাং নির্বাচন বিতর্কমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও সংঘাতমুক্ত রাখা দলের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দেশের জন্যও। শেরপুরের ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। কীভাবে শুরু হলো, কারা মদদ দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন কেন পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পারল না—এসব নিয়ে অনেক প্রশ্ন জাগছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা ভিডিওর কথা উল্লেখ করে বলেন, জামায়াতের প্রার্থীকে পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও হাত জোড় করে অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি ওই রাস্তা দিয়ে না যান। তারপরও তিনি সেই পথ বেছে নেন এবং ‘জান যায় যাক’ বলতে শোনা যায়।

মাহদী আমিন জানান, এই সংঘাতে একজন মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। তিনি বলেন, নিহত ও আহত সবাই এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চেয়েছিলেন যেখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে কোনো মারামারি বা কোন্দল থাকবে না।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে। সব মহলকে উসকানি না দেওয়ার এবং উসকানিতে না পড়ার আহ্বান জানান তিনি। শেরপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন দেশের আর কোথাও না ঘটে, সেজন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাম্প্রতিক মিছিল ও বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন বয়ান তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি ইতিবাচক রাজনীতি চায়, দোষারোপের রাজনীতি নয়।

আরও পড়ুন: সব দলের প্রতি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শনের আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের

শেষে তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির অগ্রাধিকার হলো একটি শান্তিপূর্ণ, বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য বজায় থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারবো।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জুবায়ের বাবু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *