বজ্রপাত-newsedge24

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় তিনজন, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় দুইজন এবং কুলিয়ারচর উপজেলায় একজন রয়েছেন। রোববার (১১ মে ২০২৫) বিকেলে পৃথক পৃথক ঘটনায় এই প্রাণহানি ঘটে।

ভৈরব ও কুলিয়ারচরে বজ্রপাতে তিনজন নিহত
কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও কুলিয়ারচরে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ওম্মে হাবীবা জুঁই জানান, রোববার বিকেলে ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনার পর তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতরা হলেন—ভৈরবের সাদেকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকার ফারুক মিয়া (৬০), শ্রীনগরের ফয়সাল মিয়া ওরফে তৌহিদ (২৮) এবং কুলিয়ারচরের হাজারী নগরের কবির মিয়া (২৫)।

ফারুক মিয়ার ভাতিজা খোকন মিয়া জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ফারুক মিয়া বাড়ির পাশের জমিতে কাজ করছিলেন। আকাশ মেঘলা দেখে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফারুকের পরিবার কৃষিনির্ভর, তার চার ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

কবির মিয়ার ফুফাতো ভাই ডা. এমাদ সরকার বলেন, কবির ধানের খড় আনতে মাঠে গিয়েছিল। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বজ্রপাতে আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কবির ভৈরব সরকারি হাজী আসমত কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন এবং সাত ভাইবোনের মধ্যে পঞ্চম।

ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব জানান, বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানার পর পুলিশ পাঠিয়ে নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

নাসিরনগরে বজ্রপাতে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বজ্রপাতে আট বছরের শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা নাসরিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন—চাতলপাড় ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের জাকিয়া আক্তার (৮), গোকর্ণ ইউনিয়নের শামসুল হুদা (৭০) এবং মৌসুমি শ্রমিক রাজ্জাক মিয়া (৪০)।

ভলাকুট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য তারু মিয়া জানান, জাকিয়া চাচার বাড়ি বেড়াতে এসেছিল। বিকেলে ধান শুকানোর প্রক্রিয়া দেখতে চাচার সঙ্গে মাঠে যায়। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় আরও কয়েকজন শিশু আহত হয়। গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহীন জানান, শামসুল হুদা ধানি জমি দেখতে মাঠে গিয়েছিলেন। বজ্রপাতের পর তার মরদেহ মাঠে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

স্থানীয়রা জানান, সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ গ্রামের রাজ্জাক মিয়া মৌসুমি কৃষিশ্রমিক হিসেবে নাসিরনগরের টেকানগরে ধান কাটতে এসেছিলেন। বজ্রপাতে মাঠেই তার মৃত্যু হয়। এছাড়া, ভলাকুট ইউনিয়নের হামিদা বেগম (৫০) নামে এক নারী ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন। তার কণ্ঠনালী পুড়ে যাওয়ায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ইউএনও শাহিনা নাসরিন বলেন, “বজ্রপাতে একদিনে তিনজনের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জনগণকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *