পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের প্রকল্প এলাকা এবং আবাসিক গ্রিনসিটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডে (এনপিসিবিএল) কর্মরত ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (৮ মে ২০২৫) এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান স্বাক্ষরিত দুটি চিঠিতে অব্যাহতি ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানো হয়। শনিবার (১০ মে ২০২৫) চাকরিচ্যুতরা চিঠি হাতে পান। রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রকল্পের নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
অব্যাহতিপত্রে বলা হয়, এনপিসিবিএলের জন্য তাঁদের আর প্রয়োজন নেই। ৮ মে থেকে তাঁদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে নোটিশ পেমেন্ট হিসেবে তাঁরা তিন মাসের বেতন পাবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকল্প এলাকা ও গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকায় তাঁদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
চাকরিচ্যুতরা হলেন—ডেপুটি চিফ সুপারিনটেন্ড মো. হাসান আলী, ঊর্ধ্বতন সহকারী ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম, আবু রায়হান, রফিকুল হাসান, জয়নাল হোসেন, নাঈম আল সাকিব, আবু সাঈদ, এ কে এম আবদুল্লাহ আল আমিন, শাহ ইখতিয়ার আলম, ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ, সহকারী ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল নোমান, আসিফ খান, মোহাম্মদ ইমামুল আরেফিন, মো. ইকরাম, মো. রুহুল আমীন, উপসহকারী ব্যবস্থাপক ইসমাইল হাসেন, রুবেল হোসেন এবং টেকনিশিয়ান ফিরোজ আহম্মেদ।
চাকরিচ্যুতদের দাবি, তাঁরা সবাই দক্ষ পেশাদার এবং ১২ জন বুয়েট থেকে স্নাতক প্রকৌশলী। তাঁরা রাশিয়া থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয়ে একাধিকবার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করায় তাঁদের অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাঁরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে চাকরি পুনর্বহালের দাবি করেছেন এবং আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরিচ্যুত প্রকৌশলী বলেন, “কর্মীদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরলেই দমন করা হয়। প্রতিবাদ করায় আমাদের বেছে বেছে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে পরিবার নিয়ে গ্রিনসিটি ছেড়ে যেতে বলায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি।”
এ বিষয়ে এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান বলেন, “যথাযথ তদন্ত ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোম্পানির শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।”
প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে এনপিসিবিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করে আসছিলেন। গত ৬ মে তারা ঈশ্বরদী শহরে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন। ৭ মে প্রকল্প এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভে অংশ নেন। এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।































































































































































































































































































































































