শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারা দেশে রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, তাদের টার্গেটে ছিল বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। এই ষড়যন্ত্রের পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার নাম এসেছে। সুব্রত বাইনের প্রধান সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন তার শিষ্য আবু রাসেল মাসুদ ওরফে মোল্লা মাসুদ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিবেশী একটি দেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ পাঠানো হয়েছিল। এই অর্থ দিয়ে সুব্রত বাইন বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় শ্যুটার ও কিলারদের সংগঠিত করছিল। হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তরের পর গোয়েন্দা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
রাজধানীর হাতিরঝিল থানার অস্ত্র মামলায় সুব্রত বাইনকে ৮ দিন এবং তার তিন সহযোগী—আবু রাসেল মাসুদ ওরফে মোল্লা মাসুদ, আরাফাত ইবনে নাসির ওরফে শ্যুটার আরাফাত এবং এমএএস শরীফকে ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার এই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
সুব্রত বাইন, যিনি ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ফতেহ আলী নামেও পরিচিত, নব্বইয়ের দশকে ঢাকার অপরাধ জগতে আলোচিত নাম ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, জমি ও ফ্ল্যাট দখল এবং অস্ত্র চোরাচালানের মতো অভিযোগে ঢাকায় কমপক্ষে ৩০টি খুনের মামলা রয়েছে। ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকার প্রভাবশালী অপরাধী গোষ্ঠী সেভেন স্টার গ্রুপের প্রধান ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৭ মে কুষ্টিয়ায় সেনাবাহিনীর অভিযানে তিনি গ্রেপ্তার হন।
জিজ্ঞাসাবাদে সুব্রত বাইন জানিয়েছেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তার নাম শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা তাকে এড়িয়ে যান। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের টার্গেট করেন।
গোয়েন্দা পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদের কাছ থেকে রোমহর্ষক তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের অস্ত্র, গুলি ও টাকার উৎস জানার চেষ্টা চলছে। এলাকাভিত্তিক তাদের সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সম্প্রতি হাতিরঝিল ও গুলশান এলাকায় তিনটি খুনের ঘটনায় সুব্রত বাইনের নাম উঠে আসে। গত ২১ এপ্রিল হাতিরঝিলে তার অনুসারীদের গুলিতে ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য আরিফ সরদার নিহত হন। পুলিশ জানায়, ভারত থেকে অস্ত্র এনে সুব্রত বাইন ও তার বাহিনী এসব অপরাধ সংঘটিত করছিল।































































































































































































































































































































































