ঈদের আগে বাজার-newsedge24

মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও রাজধানীসহ দেশের বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম এখনো বাড়েনি। বরং সবজি, মুরগির মাংস ও ডিমের দাম কমেছে। আদা, রসুন ও পেঁয়াজের মতো পণ্যের দামও স্থিতিশীল রয়েছে, যা সাধারণত ঈদের আগে বাড়তে দেখা যায়। তবে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঈদের চাহিদার কারণে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দাম বাড়তে পারে।

আজকের বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম কমেছে। বাজারে প্রতি কেজি টক টমেটো ৮০ টাকা, দেশি গাজর ৮০ টাকা, চায়না গাজর ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৬০ টাকা, কালো গোল বেগুন ৭০ টাকা, শসা (দেশি) ৭০ টাকা, শসা (হাইব্রিড) ৫০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, পটল (হাইব্রিড) ৫০ টাকা, পটল (দেশি) ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, এবং ধনেপাতা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা, এবং বাঁধাকপি ৫০ টাকা। প্রতি হালি কাঁচা কলা ৩০ টাকা এবং লেবু ২০-২৫ টাকা। অন্যান্য সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজারে নতুন ক্রস পেঁয়াজ ৫৫-৬০ টাকা/কেজি (ছোট ৫৫ টাকা, বড় ৬০ টাকা), দেশি পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকা/কেজি, সাদা ও লাল আলু ২০ টাকা/কেজি, বগুড়ার আলু ৩০ টাকা/কেজি, দেশি রসুন ১২০ টাকা/কেজি, চায়না রসুন ১৮০-২০০ টাকা/কেজি, এবং চায়না ও ভারতীয় আদা ১২০-২০০ টাকা/কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সব ধরনের আলুর দাম কমেছে ৫ টাকা/কেজি, অন্যান্য পণ্যের দাম অপরিবর্তিত। বিক্রেতারা জানান , “আদা, রসুন, পেঁয়াজের দাম এখনো স্থিতিশীল। তবে ঈদের চাহিদা ও আমদানির উপর নির্ভর করে দাম বাড়তে পারে। এটা আমদানিকারকদের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।”

বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা/কেজি এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা/কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগি ১৫৩-১৬০ টাকা/কেজি (৭-১০ টাকা কম), কক মুরগি ২২৫-২৫৫ টাকা/কেজি (২৫ টাকা কম), লেয়ার মুরগি ২৯০-৩০০ টাকা/কেজি (১০ টাকা কম), এবং দেশি মুরগি ৬২০-৬৫০ টাকা/কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের লাল ডিম ১২০ টাকা/ডজন এবং সাদা ডিম ১১০ টাকা/ডজন (উভয়ই ১০ টাকা কম)।

মাছের বাজারে ইলিশ ১৫০০-৩০০০ টাকা/কেজি, Stuআকার ও মানভেদে। রুই ৪০০-৫৫০ টাকা, কাতল ৪৫০-৬০০ টাকা, বেলে ৮০০-১৪০০ টাকা, কালিবাউশ ৪০০-৭০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০-১৬০০ টাকা, কাঁচকি ৫০০ টাকা, কৈ (চাষ) ২৫০-৩০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৬০০ টাকা, শিং ৪০০-৬০০ টাকা, টেংরা ৫০০-৭০০ টাকা, বোয়াল ৮০০-১২০০ টাকা, শোল ৫০০-১০০০ টাকা, চিতল ৫০০-৮০০ টাকা, কাজলী ১২০০-১৬০০ টাকা, বাতাসী ১২০০-১৪০০ টাকা, এবং রূপচাঁদা ১২০০-১৪০০ টাকা/কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুদি পণ্যের মধ্যে শুধু মাষকলাইয়ের ডালের দাম কমেছে ১০ টাকা/কেজি, বাকি সব পণ্যের দাম অপরিবর্তিত। ছোট মসুর ডাল ১৩০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারি ডাল ১০০ টাকা, বুটের ডাল ১১০ টাকা, মাষকলাইয়ের ডাল ১৮০ টাকা, ডাবলি ৬০ টাকা, ছোলা ১০০ টাকা, কাজু বাদাম ১৭০০ টাকা, পেস্তা বাদাম ২৭০০ টাকা, কাঠ বাদাম ১২২০ টাকা, কিশমিশ ৬০০-৭০০ টাকা, দারুচিনি ৫২০ টাকা, লবঙ্গ ১৪০০ টাকা, কালো গোল মরিচ ১৩০০ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১৬০০ টাকা, জিরা ৬০০ টাকা, প্যাকেট পোলাও চাল ১৫০ টাকা, খোলা পোলাও চাল ১১০-১৩০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১১৫ টাকা, খোলা চিনি ১১০ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৫০ টাকা, আটা ১১৫ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৯ টাকা/লিটার, খোলা সয়াবিন তেল ১৫৭ টাকা/লিটার, এবং খোলা সরিষার তেল ১৯০ টাকা/লিটার।

মুষলধারে বৃষ্টি ও ঈদের প্রস্তুতির মধ্যেও বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বিক্রেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ঈদের কাছাকাছি সময়ে চাহিদা বাড়লে এবং বৃষ্টির কারণে সরবরাহে ঘাটতি হলে দাম বাড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *