যশোরে ধর্ষণের শিকার শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান-newsedge24

যশোরের চৌগাছায় ৭ বছর বয়সী এক শিশু প্রতিবেশী মিজানুর রহমানের দ্বারা ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়ার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিশুটির চিকিৎসা ও পরিবারের সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সোমবার (১৬ জুন ২০২৫) সকালে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং নারী ও শিশু নির্যাতন সহায়তা সেলের সমন্বয়ক ডা. রফিকুল ইসলাম যশোর জেনারেল হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে এসে এ ঘোষণা দেন।

গত বুধবার (১১ জুন ২০২৫) বিকেলে চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ গ্রামে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলছিল। এ সময় প্রতিবেশী মিজানুর রহমান (৫৫, মৃত করিম বক্সের ছেলে) তাকে ফুসলিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং হত্যাচেষ্টা চালায়। শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা মডেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে ঈদের ছুটির মধ্যেও বিএনপি নেতাদের সহযোগিতায় ওই রাতেই তার জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর শিশুটির মা চৌগাছা থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) তাকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘটনাটি জানার পর শিশুটির চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পরিবারের নিরাপত্তা ও সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেন। সোমবার সকালে ডা. রফিকুল ইসলাম যশোর জেনারেল হাসপাতালে শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং তার মায়ের হাতে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। তিনি বলেন, “তারেক রহমানের নির্দেশে সারাদেশে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই শিশুটির চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজনে বিএনপি পাশে থাকবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান এবং ড্যাবের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা চিকিৎসক, নার্স ও আইনি সহায়তায় নিয়োজিত আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে শিশুটির চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।

আর্থিক সহায়তা গ্রহণের সময় শিশুটির মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমার মেয়ের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, তা যেন আর কোনো শিশুর ওপর না ঘটে। ধর্ষকের ফাঁসির দাবি জানাই। বিএনপি নেতারা আমার মেয়ের পাশে সবসময় ছিলেন, আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।” তিনি তারেক রহমান ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের প্রথম চার মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ১,২১৮টি বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারেক রহমানের নির্দেশে গত মার্চ মাসে বিএনপি নারী ও শিশু নির্যাতন সহায়তা সেল গঠন করে। এই সেলের মাধ্যমে আলোচিত আছিয়া কাণ্ডসহ বিভিন্ন নির্যাতনের ঘটনায় চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *