পাবনার সুজানগরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে-newsedge24

পাবনার সুজানগরে মুঠোফোনে ছেলে-মেয়ের কথা বলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৯ জুলাই ২০২৫) বিকেলে সুজানগর উপজেলা সদরের নন্দিতা সিনেমা হল এলাকায়। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা গেছে এবং আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মজিবর খাঁর অনুসারী আশিকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফের ভাতিজা ছাত্রদল নেতা কাউছার হোসেন ও তাঁর অনুসারীরা। এ ঘটনা মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বুধবার দুপুরে কাউছার আশিককে নন্দিতা সিনেমা হলের সামনে ডেকে নেন। আশিক তার চাচাতো ভাই ছাত্রদল নেতা সবুজ খাঁকে সঙ্গে নিয়ে যান। সেখানে কাউছার ও আশিকের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। সবুজ বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়।

পরে আশিক ও সবুজ তাঁদের অভিভাবক ও বিএনপির নেতাদের জানালে দুই পক্ষ দলবদ্ধভাবে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় শেখ আব্দুর রউফ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তাঁকেও কুপিয়ে ও মারধর করে আহত করা হয়। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, ধারালো ছুরি এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় কমপক্ষে ১৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিদের তালিকা

আহতদের মধ্যে নাম জানা গেছে:

  • শেখ আব্দুর রউফ (৫০), উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব
  • সুজন আলী (৩৫), চর সুজানগর
  • শেখ মনজেদ আলী (৩০), চর সুজানগর
  • আব্দুর রহমান (৪৫), চর সুজানগর
  • রিয়াজ খান (২৫), চর সুজানগর
  • টিক্কা খান (৬০), চর সুজানগর
  • ইয়াকুব আলী (৫৬), চর ভবানীপুর
  • আলহাজ হোসেন (৪০), চর ভবানীপুর
  • সবুজ খাঁ (৩০), চর ভবানীপুর
  • শাকিল খাঁ (২৫), মাস্টারপাড়া
  • মানিক খাঁ (৩৫), যুবদল কর্মী
  • তুষার হোসেন (৪০), চরতারাপুর, কাচারিপাড়া
  • আসলাম হোসেন (৪৫), চরতারাপুর, কাচারিপাড়া
  • মনজিল হোসেন (৩০), চরতারাপুর, কাচারিপাড়া

অন্যান্য আহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এবং ৭ জনকে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত সুজন নামের একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

পুলিশের বিবৃতি

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তবে এ ঘটনার মূল কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং র‍্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে এবং অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুজানগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌফিক হাসান বলেন, এই সংঘর্ষ দলীয় বিষয় নয়, বরং আঞ্চলিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের ফল। তিনি ঘটনাটিকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *