মাছ ও জলজ প্রাণীর ঝাকে ঝাকে মৃত্যু-newsedge24

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা নদীতে গত শুক্রবার (১৬ মে ২০২৫) থেকে রোববার (১৮ মে ২০২৫) সকাল পর্যন্ত ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ও জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠছে। এখলাশপুর থেকে ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীর তীরে লাল চেউয়া, সাদা চেউয়া, বেলে, সেলেং, চাপিলা, চিংড়ি, কাঁচকি, জাটকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং ব্যাঙ, কুচি, জলসাপের মতো জলজ প্রাণী মরে স্তূপ হয়ে পচছে। এতে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে নদীতীরবর্তী পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫,০০০ বাসিন্দা স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদী হয়ে জোয়ারের স্রোতে মেঘনার মিঠা পানিতে মিশছে। এর ফলে:

  • অ্যামোনিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি: স্বাভাবিক ০.১ পিপিএমের পরিবর্তে ০.২ পিপিএম বা তার বেশি।
  • অক্সিজেন হ্রাস: স্বাভাবিক ৫-৫.৫ পিপিএমের পরিবর্তে ১-১.৫ পিপিএমে নেমেছে।
  • পিএইচ হ্রাস: স্বাভাবিক ৭.৫-৯ পিপিএমের পরিবর্তে ৬-৬.৫ পিপিএম। এই পরিবর্তনগুলো মেঘনার পানিকে জলজ প্রাণীদের জন্য বাসঅযোগ্য করে তুলেছে। গত বছরের আগস্টে (২০২৪)ও একই কারণে ব্যাপক মাছ মরার ঘটনা ঘটেছিল।

দশানী, কলাকান্দা, মোহনপুর, এখলাশপুর ও ষাটনল ইউনিয়নের বাসিন্দারা দুর্গন্ধ ও দূষিত পানির কারণে শ্বাসকষ্ট, ত্বকের রোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন। শিশু ও বয়স্করা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। মেঘনার সবুজ পানি কালচে ও ঘোলাটে হয়ে জীববৈচিত্র্যের উপর হুমকি সৃষ্টি করছে। জাটকার মৃত্যু ইলিশ মৎস্য সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। জেলে সম্প্রদায় মাছ ধরতে না পেরে জীবিকার সংকটে পড়ছেন। দূষিত পানি দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পানির নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। গত আগস্টে গঠিত তদন্ত কমিটি দূষণের কারণ চিহ্নিত করেছিল, কিন্তু কার্যকর সমাধান এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. সোহরাব আলীর নেতৃত্বে একটি কমিটি ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত পানির নমুনা পরীক্ষা করে অ্যামোনিয়া বৃদ্ধি ও অক্সিজেন হ্রাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।

মেঘনা নদীতে বারবার মাছ ও জলজ প্রাণীর গণমৃত্যু বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্যের উপর ক্রমবর্ধমান দূষণের ভয়াবহ প্রভাবে ঘটছে। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই সংকট স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা এবং পরিবেশের উপর অপূরণীয় ক্ষতি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *