কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে শাহবাগ মোড় ছাড়লো ছাত্রদল-newsedge24

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ মোড় প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে ছাত্রদল। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান ও প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। দাবি না মানা হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

বিকেল পৌনে চারটায় শুরু হওয়া অবরোধ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্ব দেন। রাকিবুল বলেন, “শাহরিয়ারের হত্যা পরিকল্পিত। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ব্যর্থ। ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগ এবং হত্যাকারীদের দ্রষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে আমরা রাজপথ ছাড়ব না।” বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণার পর শাহবাগে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গত মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চের কাছে মোটরসাইকেলের ধাক্কা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন শাহরিয়ার আলম সাম্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বাসিন্দা সাম্যর মৃত্যুতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শাহরিয়ারের ভাই শরীফুল ইসলাম ১৪ মে শাহবাগ থানায় ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত তিনজন—মো. তামিম হাওলাদার (৩০), সম্রাট মল্লিক (২৮) ও মো. পলাশ সরদার (৩০)—কে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তবে ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, মূল আসামিরা এখনও ধরা পড়েনি। তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের দাবিতে শাহবাগ থানা ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন।

ছাত্রদল অভিযোগ করেছে, সাম্যের হত্যা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত। তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে মাদকাসক্তদের অভয়ারণ্য উল্লেখ করে এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে এবং একদিনের শোক ঘোষণা করেছে। তবে শিক্ষার্থীরা আধা বেলা শোক প্রত্যাখ্যান করে পূর্ণ দিবস ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও ধর্মঘট পালন করেছে।

এদিকে, বাম সংগঠনগুলো ‘সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করে ভিসি-প্রক্টরের পদত্যাগ, হত্যার দ্রুত বিচার, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত চলছে, এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন ও অবরোধের মুখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *