বিএনপি ক্ষমতায় না আসলে ভাত খাবেন না নিজাম উদ্দিন

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন, বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী, গত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভাত খাওয়া বন্ধ করে এক অভূতপূর্ব পণ পালন করে চলেছেন। তাঁর এই প্রতিজ্ঞার পেছনে রয়েছে ২০১৪ সালের একটি ঘটনা, যখন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে রান্না করা খাবার মাটিতে ফেলে নষ্ট করে দিয়েছিল। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজাম উদ্দিন শপথ নেন যে, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি ভাত মুখে তুলবেন না।

নিজাম উদ্দিনের এই প্রতিজ্ঞা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভের প্রকাশ নয়, বরং রাজনৈতিক দৃঢ়তার এক অনন্য উদাহরণ। গ্রামের মানুষের কাছে তিনি এখন একজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। স্থানীয়রা জানান, নিজাম উদ্দিন ভাতের পরিবর্তে রুটি, ফলমূল এবং অন্যান্য খাবার গ্রহণ করেন। তবে তাঁর এই ত্যাগ স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেললেও তিনি তাঁর পণ থেকে এক চুলও নড়েননি।

২০১৪ সালের বিএনপির একটি স্থানীয় অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এই কাজকে নিজাম উদ্দিন তাঁর দলের প্রতি অবমাননা হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, “ওরা আমাদের খাবার মাটিতে ফেলে আমাদের সম্মান নষ্ট করেছে। আমি ঠিক করেছি, বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত খাব না। এটা আমার প্রতিবাদ।”

নিজাম উদ্দিনের এই পণ স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপির স্থানীয় নেতারা তাঁর এই ত্যাগকে দলের প্রতি আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

নিজাম উদ্দিনের পরিবারও তাঁর এই সিদ্ধান্তে শুরুতে উদ্বিগ্ন ছিল। তাঁর স্ত্রী বলেন, “প্রথমে আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তার জেদের কাছে আমরা হার মেনেছি। এখন আমরা তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।” তবে তিনি এও বলেন, “তার স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা চিন্তিত।”

নিজাম উদ্দিনের গল্প এখন বাঁশবাড়িয়া গ্রাম ছাড়িয়ে জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “আমার এই পণ আমার দলের জন্য, আমার নেতা জিয়াউর রহমানের জন্য। আমি শেষ পর্যন্ত এই পণ রক্ষা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *