কুমিল্লা-ভিক্টোরিয়া-কলেজ-সিফাত-আবরার-newsedge24

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় মুলহোতা সিফাত ও আবরারসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। রোববার ও সোমবার পুলিশের অভিযানে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও বুড়িচং উপজেলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রত্তিতা কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ।

এর আগে, রোববার দুপুরে কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হন, যাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতরা হলেন— মোস্তাফিজুর রহমান, অনয় দেবনাথ, মো. মাহিন ও মো. রিজভী। তারা কুমিল্লার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, সকালে কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শাখার ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থী জিসান ও তাহফিদের সঙ্গে বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী তানভীন সিফাতের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় সিফাত ফাহাদকে মারপিট করে এবং জিসানকে মারধরের হুমকি দেয়। পরে ফাহাদ ও সিফাতের মধ্যে মারামারি হয়। এক পর্যায়ে সিফাত তার বিভিন্ন কলেজে থাকা বন্ধুদের কল দিলে তারাও যোগ দেয়। বেলা ১২টার পর কলেজের শিক্ষার্থীরা বের হওয়া শুরু হলে সিফাত ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাথাড়ি হামলা করে।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক তরুণ হাতে ধারালো রামদা নিয়ে অন্য তরুণদের দৌড়াচ্ছে। এ সময় এক তরুণের হাতে পিস্তল দেখা যায়। ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে হাতে অস্ত্রসহ দেখা যাওয়া তরুণটি সিফাত।

কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রত্তিতা কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পরপরই অভিযানে নামে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাব। রোববার রাতে ও সোমবার সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ও বুড়িচং উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে মূলগ্রুপের সিফাতসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনও রয়েছেন। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃতরা গ্রুপ আধিপত্য বিস্তারের জন্য এই সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিচারের জন্য আদালতে হাজির করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *