জোবায়েদ-বর্ষা-মাহির-newsedge24

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনায় ছিলেন ছাত্রী বর্ষা ও তার প্রেমিক মাহির রহমান। পুলিশ জানিয়েছে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে তারা এই পরিকল্পনা করেন। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

ওসি বলেন, “হত্যার দিনে মাহিরের সঙ্গে তার আরও দুই বন্ধু ছিল। হত্যার জন্য তারা নতুন দুটি সুইচ গিয়ার চাকু কেনেন। এলোপাতাড়ি ছুরি চালায় মাহির। আর মাহিরকে হত্যার জন্য বলেন বর্ষা।” এটি বর্ষা ও মাহিরের পরিকল্পিত হত্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্ষার সঙ্গে মাহিরের ৯ বছরের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মাঝে আবার বর্ষা জোবায়েদের ওপর দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় বর্ষা মাহিরকে না করে দেয় এবং সে জোবায়েদকে পছন্দ করে বলে জানায়। কিন্তু কিছুদিন পরেই তার বয়ফ্রেন্ড মাহিরকে জানায় যে জোবায়েদকে আর ভালো লাগে না। তখন জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বর্ষা ও মাহির।”

প্রাথমিকভাবে জোবায়েদকে হত্যার এই পরিকল্পনা বর্ষা স্বীকার করেননি বলে জানান রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “পরবর্তীতে মাহির ও বর্ষাকে মুখোমুখি করলে সব সত্যতা জানায়। জোবায়েদকে কীভাবে সরিয়ে দেওয়া যায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই পরিকল্পনা করেন তারা। এখন পর্যন্ত বর্ষাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার শেষ প্রস্তুতি চলছে।”

উল্লেখ্য, জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন। গত এক বছর ধরে জোবায়েদ পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় ১৫, নুরবক্স লেনে রৌশান ভিলা নামের বাসায় বর্ষা নামের এক ছাত্রীকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন। ওই ছাত্রীর বাবার নাম গিয়াসউদ্দিন।

রোববার (১৯ অক্টোবর) আনুমানিক বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে ছাত্রীর বাসার তিন তলায় উঠতে সিড়িতে তিনি খুন হন। বাসার নিচ তলার সিড়ি থেকে তিন তলা পর্যন্ত সিড়িতে রক্ত পড়েছিল। তিন তলার সিড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় জোবায়েদকে।

আরও পড়ুন: পুলিশের ধারণা ছাত্রীর প্রেমিক জবি ছাত্রদল নেতাকে হত্যা করতে পারে

পরবর্তী সময়ে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বংশাল থানার সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করে রাখেন। পরে রোববার রাত ১১টার দিকে ওই ছাত্রী বর্ষাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। সোমবার (২০ অক্টোবর) জোবায়েদকে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *